পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেন, সকল সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে খাগড়াছড়িকে একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হচ্ছে স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জেলার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক মিন্টুর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, লেখক ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মংপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ–সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সহ–সভাপতি হাফেজ উদ্দিন ভূইয়া, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আলোর নির্বাহী পরিচালক অরুণ বিকাশ চাকমা, নারী নেত্রী মনিতা চাকমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা খাগড়াছড়ির উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকলে পাহাড়ের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। উন্নয়নের সুফল সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।












