পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন সংগঠনের নানা আয়োজন

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

বর্ণিল শোভাযাত্রা, গান, কবিতা, নৃত্যর তালে তালে জীবনের গান গেয়ে বিভিন্ন সংগঠন উদযাপন করেছে বাংলা নববর্ষ। নববর্ষের দিন ছিল নানা আয়োজন। শত বাধা পেরিয়ে গাই বাংলার গানএ ছিল সবার শপথ।

লায়ন্স জেলা : লায়ন্স জেলা ৩১৫বি৪ এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান লায়ন আশীষ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও উদযাপন কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি লায়ন লুবনা হুমায়ুনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা গভর্নর মোসলেহ উদ্দিন অপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদ্য প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন কোহিনুর কামাল, প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন কামরুজ্জামান লিটন, দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন আবু বক্কর সিদ্দিকী, প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন এম এ মালেক, লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া, লায়ন সিরাজুল হক আনসারী, লায়ন আল সাদাত দোভাষ, কেবিনেট সেক্রেটারী লায়ন আবু মোরশেদ, ট্রেজারার গাজী মো. শহীদুল্লাহ এবং বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির সেক্রেটারী লায়ন চন্দন দাশ ও ট্রেজারার লায়ন নুরুল আলম।

এই আয়োজনে বৈশাখী সাজ, পিঠা উৎসব, বাউল সংগীত, সাংস্কৃতিক উৎসব, নৃত্য, নাগর দোলা, বায়োস্কোপসহ বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এতে সর্বস্তরের লায়ন, লিও ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অংশ নেন।শোভাযাত্রা উদ্বোধনে জেলা গভর্নর বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য। বাংলা নববর্ষে সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে যে সম্প্রীতি সহমর্মিতার আবেশ তৈরি করে নিঃসন্দেহে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক।

পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি : গ্রামবাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বৈশাখী মেলা। প্রকৃতির কোলে গ্রামের খোলা মাঠে বৈশাখী উৎসব পালন করলেও বর্তমানে শহরের ইটদেয়ালের মাঝেও পালিত হচ্ছে বৈশাখী মেলা।

প্রতিবারের মতো এবারও নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির আয়োজনে জুলাই স্মৃতি উদ্যানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে দুদিনব্যাপী বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব। বর্ষবরণ কর্মসূচির শুরুতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নগরীর বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের লোকজ, পাহাড়ি, আঞ্চলিক গান ও বাদ্যের তালে তালে নাচ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপভোগ করেন চট্টগ্রামের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। বৈশাখী উৎসবের আয়োজনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল পিটুপি। সহযোগিতা করেছে উৎসব সুপার মার্কেট, সি ও ল এবং ইস্টএন্ড২৪।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি : চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার সমিতির অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হালিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. সোহাগ তালুকদার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম, জনাব এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার, চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী।

চট্টগ্রাম লেডিস ক্লাব : চট্টগ্রাম লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে গানকবিতা ও কথামালার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। গতকাল বুধবার নববর্ষের ‘আনন্দ আয়োজন’ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ক্লাব প্রেসিডেন্ট খালেদা আউয়াল। আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা ড.জয়নাব বেগম, সহ সভানেত্রী পারভিন চৌধুরী, সদস্যা আশরাফুন্নেসা, সদস্যা ফরিদা ফরহাদ। আলোচকরা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করে বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির অনন্য একটি দিন পহেলা বৈশাখ। দিনটি ঐতিহ্যের, আনন্দের এবং গৌরবেরও। এদিন নব আলোর কিরণশিখা শুধু প্রকৃতিকে নয়, রাঙিয়ে দেয় নবরূপে প্রতিটি বাঙালির মন ও মনন। নতুনরূপে নতুন শপথে শুরু হয় আগামী দিনের পথচলা। সদস্যা মর্জিনা আখতারের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীত বৈশাখী গান ‘এসো এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশন করেন ক্লাব সদস্যারা। একক সংগীত পরিবেশন করেন ক্লাব সহ সভানেত্রী পারভিন জালাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদিকা রুহী মোস্তফা, জুবিলি রহমান, সেলিনা মাহবুব, সাহানা আখতার বীথি, নাজনীন আরা, রোকেয়া আহমেদ, খালেদা আক্তার চৌধুরী।

স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সাবিহা মুসা, নাছিমা শওকত ও অধ্যাপিকা আলেয়া চৌধুরী। আবৃত্তি করেন বোরহানা কবির, ডা. হাফসা সালেহ, কাজী রুনু বিলকিস, ইসমত আরা খন্দকার।কথামালা পর্বে অংশ নেন মিনু আলম, সৈয়দা শামীম কাদের সুরমা, কোহিনুর হোসাইন, রোকেয়া আকতার বারী, শামীম আরা আহাদ, হাজেরা আলম মুন্নী, মুনিরা হুসনা, সামসুন নাহার আনোয়ার, মাহমুদা বেগম রুলী, সাকেরা সাদেক, মনোয়ারা আলম, মরিয়ম বেগম মিনা, শাহরিয়ার ফারজানা, রোকেয়া চৌধুরী, লায়লা বেগম, সামশুন নাহার করিম, রওশন আক্তার, নাজমা সাইদা বেগম, গুলসানা আলী, লায়লা ইব্রাহিম বানু প্রমুখ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্লাব সম্পাদিকা বোরহানা কবির।

উদীচী চট্টগ্রাম : ‘শত বাধা পেরিয়ে মোরা বাংলার গান গাই’ এই আহ্বানকে সামনে রেখে নন্দনকানন কাটা পাহাড় চত্বরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই আয়োজনের সূচনা হয়। উদীচীর শিল্পীকর্মী,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীকর্মী, সুহৃদ এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে এই আয়োজন।

সংক্ষিপ্ত কথামালায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজ। সুনীল ধরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট অসীম বিকাশ দাশ, ডা.অসীম চৌধুরী। কথামালায় অংশগ্রহন করেন কবি অভীক ওসমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদ, সংগঠক বৃজেট ডায়েস।

চুয়েট : চুয়েটে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। চুয়েট পরিবারের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা নববর্ষের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বাঁশি, ব্যানার নিয়ে আনন্দে মেতে শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পান্তা ভোজন, প্রীতি কাবাডি ম্যাচ, ঘুড়ি উড়ানো উৎসব ইত্যাদি। গত ১৪ এপ্রিল চুয়েটের প্রশাসনিক ভবন২ এর সামনে থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাস গোলচত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া।

বিশেষ অতিথি ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মুক্তিযোদ্ধা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বিপুল চন্দ্র মন্ডল। সমাপনী বক্তব্য রাখেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. মুক্তার হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপপরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান শারমিন সুলতানা তমা।

প্রধান অতিথি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি উৎসবযা ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতিকে একসূত্রে গেঁথে দেয়। এই দিনটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব, আনন্দ ও ভালোবাসার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে আমরা সবাই একত্রিত হই নতুন আশা ও উদ্দীপনায়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ এই চেতনা ধারণ করে আমরা যেন ঐক্য, ন্যায় ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

নরেন আবৃত্তি একাডেমি : কাজীর দেউড়ি সিজেকেএস মুক্তমঞ্চে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নরেন আবৃত্তি একাডেমির উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দলীয় নৃত্য, দলীয় সংগীত, দলীয় আবৃত্তি, মুকাভিনয়, পথনাটক ও একক সংগীত পরিবেশনায় মুখরিত ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। মোট ৩৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশগ্রহণ করে। সভাপতিত্ব করেন আয়োজনের পরিচালক মিশফাক রাসেল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও বিসিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোহাম্মদ সেকান্দর, রাশেদ হাসান, মাহবুবুর রহমান মাহফুজ এবং কামরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগের দিন।তারা উল্লেখ করেন, আধুনিকতার ভিড়ে যেন বাংলা সংস্কৃতির মূল সুর হারিয়ে না যায়, সে জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সালমান ওয়ালি, হ্যাপী চৌধুরী, সৈয়দ হোসেন বাবু, ওমর ফারুক, অরিত্রি দাশ, গোলাম রহমান আশিক ও ইশফাক শুভ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅপরাধ প্রতিরোধে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধদেশ গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে