চিকিৎসকের দরজায় অসুস্থ কাক

বাঁশখালী প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

অসুস্থ হয়ে নিজেই হাসপাতালে হাজির হয়েছে একটি কাক। গতকাল বুধবার সকালে বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বারান্দায় এসে কাকটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে সেটি ডাকতে ডাকতে চিকিৎসকদের দিকে এগিয়ে আসলে তারা বুঝতে পারেন, পাখিটি আসলে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে। এমন বিরল ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা দ্রুত কাকটির চিকিৎসা শুরু করেন। কাকটির শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষত ও চামড়ায় বিষফোঁড়ার মতো মাংসপিণ্ড ছিল। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থান আয়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়।

চিকিৎসার সময় কাকটির আচরণ ছিল বিস্ময়কর। সাধারণত বন্য পাখি চিকিৎসার সময় অস্থির হয়ে উঠলেও এই কাকটি ছিল সম্পূর্ণ শান্ত; সে কোনো প্রতিরোধ করেনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সমপ্রসারণ কর্মকর্তা ডা. জুলকারনাইন শাওন এ বিষয়ে বলেন, সকাল ৯টার দিকে আমরা হাসপাতালে ঢোকার সময় দরজার সামনে একটি কাক দেখতে পাই। পরে সেটি ডাকতে ডাকতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। হাতে নিয়ে দেখি কাকটি পক্স রোগে আক্রান্ত। তখনই আমরা চিকিৎসা শুরু করি।

তিনি আরও জানান, সকালে চিকিৎসার পর ছেড়ে দিলে সেটি হাসপাতালের আশপাশেই অবস্থান করে। পরে বিকেলে তাকে আবার ওষুধ সেবন করানো হয়। কাকটি যদি সেখানে থাকে, তবে পর্যায়ক্রমে তাকে আরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বর্তমানে কাকটিকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার পর সেটি মাঝেমধ্যে গাছের ডালে বসছে, আবার ফিরে আসছে হাসপাতালের বারান্দায়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বিষয়টিকে ‘প্রকৃতির ভাষায় সাহায্য চাওয়া’ হিসেবে দেখছেন।

নীরব প্রাণীরাও যে তাদের কষ্ট প্রকাশ করতে পারে, বাঁশখালীর এই ঘটনা যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল। এটি কেবল একটি পাখির চিকিৎসা নয়, বরং প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস