দেশ গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে

চবিতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী

| বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে এ দেশে আবার কোনো অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কেউ কায়েম করার দু:সাহস দেখাতে না পারে।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতায় আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন। সভাপতিত্ব করেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৪এর জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, আজকের অনুষ্ঠানে এসে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন দেখে মনে হয়েছে আমরা বহুলাংশে সফল হয়েছি। আজকে চট্টগ্রাম শহরে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহউদ্দীপনা এবং সৌহার্দ্য দেখেছি, সম্প্রীতির মনোভাব দেখেছি এটাতেই মনে হয়েছে, আমাদের সব কষ্ট সফল হয়েছে।

শাটল ট্রেনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সকল অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। চবি ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষকশিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে নজর থাকবে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ডিপিপি আসেনি। যার কারণে দীর্ঘদিন আমাদের ক্যাম্পাসে আবাসন বা ভবন গড়ে উঠেনি। এছাড়া তিনি শাটলের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বাংলা নববর্ষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সম্প্রীতির বন্ধন। এদিনে আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভুলে মিলেমিশে বসবাস করার প্রত্যয় নিয়ে উৎসবে মেতে উঠি। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমাদের মধ্যে যত সমস্যা রয়েছে, সব সরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

উপউপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে’ প্রতিপাদ্যে চবি প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা পর্ব, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বলি খেলা, বউচি খেলা ও কাবাডি খেলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চবি ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা সহকারী পরিচালক তাহমিদা খানম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপহেলা বৈশাখে বিভিন্ন সংগঠনের নানা আয়োজন
পরবর্তী নিবন্ধএর্শাদ আলী সরকারের বলিখেলা ও মেলা কাল