ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। এর মধ্যে একটি আসনের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে লেখা হয়েছে, এর মধ্যে ২০৬টি আসনে বিজেপির জয় কিংবা এগিয়ে থাকার তথ্য এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। সিপিএম পেয়েছে ১টি, কংগ্রেস ২টি এবং অন্যান্যরা পেয়েছে ৩টি আসন।
বিধানসভা নির্বাচনে দলের মতো নিজ আসন ভবানীপুরেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ আসনে রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট পেয়েছেন। আর বিজয়ী প্রার্থী শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আলোচিত নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। সে সময় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৩ ভোট পেয়েছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূল নেত্রী পান ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৭ ভোট। তবে দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, বিধায়ক না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে মমতার কোন সাংবিধানিক বাধা ছিল না। তিনি পরে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসন থেকে এবারও বিজয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। অপরদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো আসামে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। রাজ্যের ১২৬ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৭৬টি আসন। জয় ও এগিয়ে থাকার প্রবণতা বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর ঝুলিতে অন্তত ১০২টি আসন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জিততে চলেছে ২১টিতে। অন্যান্যরা তটি আসন পেতে চলেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জালুকবাড়ি কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈ যোরহাট আসনে হেরেছেন। এবার তাকেই অঘোষিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল কংগ্রেস।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়। তাতে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা পুরো ভারতেই নজিরবিহীন। অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে। অধিকাংশ বুথফেরত জরিপে এবার বিজেপির জয়ের আভাসই দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই সে আভাস ফলতে শুরু করে। এদিকে ১০০টিরও বেশি আসনে ভোট লুট হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু পরে ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ–এর সামনে। আমি প্রার্থী, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এটা হচ্ছে দানবিক পার্টি। ১০০টারও বেশি সিট লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশন হল বিজেপি কমিশন।’ এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলনেত্রীর। তিনি আরও বলেন, ‘এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমরাল ভিক্ট্রি। মরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।’ সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোন মমতা। মমতার গাড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোতেই ‘চোর–চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা। সন্ধ্যায় তিনি গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময়েও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।














