যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা প্রায় সাত মাসের যুদ্ধের পর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দৃঢ়কণ্ঠে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার জবাবে বুধবার পেজেশকিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ বা খবরদারির মুখে পড়লে ইরানিদের প্রতিরোধ আরও বাড়বে।
বিবিসি লিখেছে, জাতিসংঘের ৮১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধরত কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট নিউ ইয়র্কে এসে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিলেন। পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মার্কিন প্রতিনিধিরা। খবর বিডিনিউজের।
কয়েক মাস আগেও মার্কিন বিমান হামলা থেকে বাঁচতে যিনি আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার থেকে দেশ পরিচালনা করছিলেন, সেই পেজেশকিয়ান এবার নিউ ইয়র্ক শহরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কড়া নিরাপত্তায় এসইউভি গাড়িবহর নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা কখনোই মাথা নোয়াব না বা নতজানু হব না। তবে গায়ের জোর না দেখালে আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও মানব না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার।
এ সময় তিনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ছবি তুলে ধরেন। এছাড়া মিনাব ও লামারদে মিসাইল হামলায় নিহত ১৭৫ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকের ছবি দেখান তিনি, যাদের দুই–তৃতীয়াংশই শিশু। যুক্তরাষ্ট্র লামারদে হামলার কথা অস্বীকার করেছে এবং মিনাবের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার কথা বলে আসছে।
যুদ্ধ থামাতে যে কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এমনটা হতে পারে না যে, সবাই হরমুজ প্রণালির সুবিধা ভোগ করবে, আর আমাদেরই এই নৌপথ ব্যবহারে বাধা দেওয়া হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন–ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সে সময় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হত।













