কালুরঘাট ফেরীর ইজারা আদায়ের জন্য দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আগামী তিন বছর ফেরী থেকে ইজারা আদায়ের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল।
টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ এবারও সর্বোচ্চ (প্রথম দফা টেন্ডারের মতো) দরদাতা হিসেবে ফেরীর ইজারা নেয়ার জন্য ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করেছে। প্রথম দফা টেন্ডারে আমানত শাহ্ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দরদাতা ছিল।
এদিকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স আড়াই কোটি টাকায় ফেরীর তিন বছরের জন্য ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইদ্রিস এন্ড সন্স দরপত্র দাখিল করলেও কোনো পে অর্ডার দাখিল করেনি। যার ফলে এই দরপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ফেরীর ইজারা আদায়ে তিনগুণের বেশি দর উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গত ২০ আগস্ট দাখিলকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রম তালিকায় দেখা যায়, আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় ফেরীর ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করে। এই প্রতিষ্ঠানকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় থাকা টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে, যা আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে ২ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা কম। এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীনকে কয়েকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরী ইজারা দেয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম দফায় টেন্ডারে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করে।
উল্লেখ্য, কালুরঘাট ফেরী ইজারার প্রথম দফায় আহ্বানকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়েছিল গত ১৫ জুলাই। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছিল আমানত শাহ্ এন্টারপ্রাইজ। এরপর দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ দর দাখিল করেছে মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের রহমতগজ্ঞের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট ফেরীর চলমান ইজারা প্রক্রিয়ার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। টোল নীতিমালা অনুযায়ী চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম চার মাস পূর্বে নতুন ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী তিন বছরের জন্য ফেরীর টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৩ সালে এই কালুরঘাট ফেরী সার্ভিস চালাতে ইজারাদার নির্বাচন করতে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাত দফা টেন্ডার আহ্বান করতে হয়েছিল।
সর্বশেষ ২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য এই ফেরী সার্ভিস ইজারা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান তিনবছর ধরে ফেরী থেকে ইজারা আদায়ে করে আসছে।











