সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এ টেস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে টাইগাররা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হার এড়াতে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার।
সিরিজের এই দ্বিতীয় টেস্টটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হচ্ছে। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেস্ট ইতিহাসে অসিদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। এতে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে নাজমুল ইসলাম শান্তর দল। প্রথম টেস্ট জয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারের কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের। এমনকি অস্ট্রেলিয়া যদি এই টেস্ট জিতেও যায় এবং সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হয়, তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই সিরিজের ফলাফল সেরার কাতারেই থাকবে।
চাপে থেকেই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারলে, ১৩৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা প্রতিপক্ষের কাছে সিরিজের সব ম্যাচ হারের লজ্জা পাবে অজিরা। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টকে দলের ব্যাটিং ইউনিটের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান তুলে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সেরা সুযোগ ব্যাটারদের। বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য আবারও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়বেন অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনার নাথান লায়ন। শান্ত মনে করেন, এমন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় সুযোগ। দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে, এখানে আসার আগে থেকেই আমি এমন বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম। আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, আমরা যদি এ ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই রান করা সম্ভব।’ ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইতেও পারফরমেন্সের সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে চায় বাংলাদেশ। শান্ত বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে এটি আমাদের জন্য একটি সুযোগ এবং বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের দলের বিপক্ষে রান করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কন্ডিশন বা বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার সময় অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।’ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বাউন্স বেশি থাকবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সফল টেস্ট অধিনায়ক শান্ত। তবে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই নামছে বলে মনে করেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় ডারউইনের তুলনায় এখানে বল কিছুটা বেশি বাউন্স করবে। এখানে আসার আগেই আমরা এমন বাউন্সি উইকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এছাড়া এখানে আসার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের একটি সিরিজ ছিল, যেখানে উইকেটগুলো প্রায় একই রকম ছিল।’ সামপ্রতিক নেট সেশনে বাড়তি বাউন্স সামলানোর অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাই ম্যাকাই টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে টাইগার ব্যাটারদের। শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি, গত কয়েক দিনের নেট সেশনে ব্যাটাররা তাদের দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছে। আমার বিশ্বাস, তারা বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারবে।’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়ের পর এবার ডারউইনে জিতেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টই হারে তারা। পাঁচ টেস্ট হারের মধ্যে তিনটিই ছিল ইনিংস ব্যবধানে। ম্যাকাইয়ের ম্যাচটি শুধু সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট নয়, ভেন্যুটির জন্যও ঐতিহাসিক। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছে। কুইন্সল্যান্ডের এই মাঠে ১৯৯৫–৯৬ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কুইন্সল্যান্ডের একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ দিয়ে লাল বলের ক্রিকেট শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৫–১৬ মৌসুম থেকে এখানে আবার নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ফিরেছে। ম্যাকাইয়ে এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়েছে মাত্র পাঁচটি। সর্বশেষ ম্যাচটি হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ব্রেন্ডন ডগেট ভারত ‘এ’–এর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রান খরচ করে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। এই মাঠে ব্যাট হাতে ম্যাট রেনশরও দারুণ স্মৃতি রয়েছে। ম্যাকাইয়ে দুটি প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার তিনি। এই মাঠের উইকেটের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পেসারদের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে পেসাররা নিয়েছেন ১২২ উইকেট, যেখানে স্পিনারদের শিকার ৫০টি। পেসারদের গড় ২৩.৬৭, বিপরীতে স্পিনারদের গড় ৩১.৭৬। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ম্যাকাইয়ের লাল বলের ক্রিকেটে পেসারদের দাপটই বেশি।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসেবেও ম্যাচটির গুরুত্ব কম নয়। ডারউইনে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৮৭.৫০ থেকে নেমে হয়েছে ৭৭.৭৮। বাংলাদেশের অবস্থানও উন্নত হয়েছে। তবে অধিনায়ক শান্ত ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছেন, দূরের হিসাব না করে ম্যাচ ধরে এগোতে চায় দল। সেই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ এখন ম্যাকাই। সব মিলিয়ে ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থাকবে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে, অস্ট্রেলিয়া থাকবে ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়নায়।











