জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবার ঐকমত্য চাইলেন বিরোধীদলীয় কয়েকজন সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুম, আয়নাঘর, ‘ফ্যাসিবাদ’, জুলাই সনদ ও গণহত্যা প্রশ্নে সংসদের সব সদস্যের ঐকমত্য থাকা উচিত। দলটির পাবনা–৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডলও মনে করেন, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ঐকমত্য দরকার। গেল ১১ জুন সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ খসরু। বিরোধী দলের সদস্যরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে জামায়াতের সদস্য সদস্য রুহুল আমিন বলেন, সম্পদের বৈষম্য কমানোর কার্যকর রূপরেখা ‘স্পষ্ট নয়’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫ শতাংশ মানুষের হাতে গোটা দেশের টাকা, আর বাকি ৯৫ শতাংশ মানুষের হাতে বাকি টাকা। এই বৈষম্য নিয়ে একটি দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। খবর বিডিনিউজের।
রুহুল আমিন বলেন, বাজেট কেবল উন্নয়ন বা টাকার হিসাব নয়; বাজেটের সঙ্গে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্নও জড়িত। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হলেও গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় ছিল অনেক কম। কর–জিডিপি অনুপাতের তুলনা টেনে জামায়াতের এ সদস্য বলেন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। এই বাস্তবতায় এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাবনা–৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল বলেন, বাজেট বড় হয়েছে এবং ঘাটতিও বড়। তবে ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাখাতের বরাদ্দে ‘অদৃশ্য ব্যয়’ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মোট বরাদ্দের সঙ্গে উপখাতের ব্যয়ের হিসাবের পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার। দুর্নীতি ও মাদককে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা যারা ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি, আমরা যদি দুর্নীতিকে আশ্রয়–প্রশ্রয় না দিই, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি বিদায় হতে সময় লাগবে না। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবকাঠামো, যানবাহন ও আবাসন সুবিধার জন্য আরও বরাদ্দ দাবি করেন তিনি।
কুষ্টিয়া–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ১০টি অগ্রাধিকারের মধ্যে সুশাসনের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, অবাস্তব রাজস্ব আয়ের এবং অতি ঋণনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আব্দুল গফুর বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না।
বগুড়া–৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণমুখী, উৎপাদনমুখী, জনবান্ধব, জনকল্যাণ ও মানবিক’ বলে বর্ণনা করেন। বাজেটকে যারা ‘স্বপ্নবিলাসী’ বলছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বপ্নই যদি না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কী করে? শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তার মতে, দক্ষ শিক্ষক তৈরি, গবেষণা, উদ্ভাবন, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, নারী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম–মুয়াজ্জিন ও পুরোহিত–সেবায়েতদের সম্মানী, খেলাকে পেশা হিসেবে দেখা এবং কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সরকারি দলের এই সদস্য।










