দুই যুগ আগে বাতিল আইনের দুটি মামলা এখনো সচল

মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালটিও বহাল । ৪০ মামলার মধ্যে ৩৮টি স্থগিত আছে

হাবীবুর রহমান | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

কাগজেকলমে বাতিল হওয়ার দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও পিছু ছাড়ছে না জননিরাপত্তা আইন। এখনো সচল রয়েছে এই আইনে দায়ের হওয়া মামলার বিচারিক কার্যক্রম। বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর দীর্ঘসূত্রতার নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে চট্টগ্রাম জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০০২ সালে ‘জননিরাপত্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ২০০০’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলেও এই আইনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালটি এখনো বহাল রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এই ট্রাইব্যুনালে জননিরাপত্তা আইনের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০টি। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে ৩৮টি মামলা। তবে আইনি মারপ্যাঁচ ও জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে সচল রয়েছে ২টি মামলা, যা এখন চূড়ান্ত ধাপ বা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অনেক আগে বাতিল হওয়া একটি আইন এবং বিচারিক কার্যক্রম এভাবে দুই যুগ ধরে কীভাবে টিকে থাকে?

আদালত সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া এই আইনের মামলার দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ মিলেছে ট্রাইব্যুনালে সচল থাকা একটি ছিনতাই মামলার নথিপত্রে। ২০০১ সালের ১০ মে নগরীর কোতোয়ালী থানায় জননিরাপত্তা আইন, ২০০০এর ৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎ বিভাগের চাকরিজীবী খন্দকার শফিকুর রহমান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আগের দিন ৯ মে দুপুরে জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড কর্পোরেট শাখা থেকে ১ লাখ টাকা তুলে টেঙিতে বাসায় ফেরার পথে দুই ছিনতাইকারী অস্ত্র ঠেকিয়ে তা লুটে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন কোতোয়ালী থানার এসআই মো. এমদাদুল হক ৯ দিনের মাথায় ১৯ মে দুই আসামি আবু তাহের ও জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জ গঠনের পর দ্রুত বিচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের আবেদনে উচ্চ আদালতের দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশের কারণে মামলাটি থমকে যায়। ২০২৪ সালের দিকে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। বর্তমানেও এ মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী এ ধরনের মামলা ৬ মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও ২৪ বছর ধরে তা ঝুলে থাকা বিচারপ্রার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির। এদিকে জননিরাপত্তা আইন ২০০২ সালে বাতিল হলেও পূর্বে দায়ের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সেকান্দার বলেন, জননিরাপত্তা আইনের ৪০টি মামলার মধ্যে ৩৮টি মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত রয়েছে। বাকি দুটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকজন করে ইতিমধ্যে সাক্ষ্যও দিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে চলে যাবে মামলা দুটি। তিনি জানান, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে বাকি মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আরম্ভ হবে।

মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান আজাদীকে বলেন, জননিরাপত্তা আইন, ২০০০ একটি কালো আইন, যার কারণে আইনটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। যে আইনটি বাতিল করা হয়েছে সেই আইনের মামলা এখনো কীভাবে বিচারাধীন থাকে? এসব মামলা তো দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, এ আইনের যেসব মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত রয়েছে সেগুলোরও সুরাহা হওয়া উচিত। স্থগিত থাকা মামলাগুলো থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিতে পারে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২৪ বছর আগে যেসব অভিযোগে জননিরাপত্তা আইনে মামলা হতো, সেসব ক্ষেত্রে বর্তমানে দ্রুত বিচার আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৬ মাস পর আজ উৎপাদনে যাচ্ছে সিইউএফএল
পরবর্তী নিবন্ধ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত