দুই বছরের জন্য আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

আদালতে অসংলগ্ন আচরণ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের একটি আদালতে জামিন শুনানির সময় অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় অসংলগ্ন কথা বলা ও অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শাহেদুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। অপরাধ স্বীকার করায় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে আগামী দুই বছরের জন্য চট্টগ্রামের যেকোনো আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আদালত ও সমিতিসূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট–৪ এর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার (সি আর মামলা নং ৩২৭/২৫) আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শাহেদুল হক। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে জানান যে, আসামির জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই এবং তিনি নিজেই শুনানি করতে চান। আদালত তখন জানান যে, জামিনের শুনানিতে আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আইনজীবী শাহেদুল হক আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শুনানিকালে তিনি অপ্রকৃতিস্থ ও মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং পোশাক–পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। তার এই অস্বাভাবিক আচরণ ও শারীরিক অবস্থা দেখে আদালত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন। আদালত ও সমিতিসূত্রে আরো জানা গেছে, আদালতের ডোপ টেস্টের নির্দেশ দেওয়া হলেও আইনজীবী শাহেদুল হক তা না করে সরাসরি আদালতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে আদালত বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিকে অবহিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গত ৭ অক্টোবর আইনজীবী শাহেদুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয় এবং তিনি গত ১৪ অক্টোবর তার জবাব দেন। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং তিনি অপরাধ স্বীকার করায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সমিতি। এরপ্রেক্ষিতে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২ বছরের জন্য মো. শাহেদুল হককে চট্টগ্রামের যেকোনো আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদেশের একটি অনুলিপি অবগতির জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালতের বিচারকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা তদন্তে শাহেদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে আগামী দুই বছরের জন্য চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। আদালতসহ সমাজের র্সবস্তরে বার কাউন্সিল রুলস, অর্ডার মেনে আইন পেশা চর্চা করতে হবে আইনজীবীদের বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিমেন্ট কারখানায় সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধবিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার : তথ্য উপদেষ্টা