মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে মানুষ সুখে, শান্তিতে এবং নিরাপদে বসবাস করতে চায়। নিরাপদে থাকার জন্য প্রয়োজন সামাজিক সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান। সামাজিক সমপ্রীতি হলো সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতি ও মতাদর্শের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শান্তি, সৌহার্দ্য, শ্রদ্ধা এবং মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করার সুন্দর মানসিকতা। এই সুন্দর মানসিকতা একটি দেশের শান্তি, ঐক্য এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত।
সামাজিক সমপ্রীতির মূল বৈশিষ্ট্য হতে পারে: ১. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস: পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস রেখে মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে পারলেই সেই সমাজে সমপ্রীতি গড়ে ওঠে। সামাজিক সমপ্রীতির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যকার হিংসা, বিদ্বেষ এবং অবিশ্বাস দূর করতে পারলেই একটি নিরাপদ সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ২. সহযোগিতা: বিপদে–আপদে দল–মতনির্বিশেষে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, এগিয়ে যাওয়া, যেকোনো সমস্যা সমাধানে মিলেমিশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করে তা সমাধান করা গেলেই সামাজিক সমপ্রীতি বৃদ্ধি পাবে। ৩. সহনশীলতা: সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথের অনেক মানুষ থাকতে পারে। এসব আমলে না নিয়ে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহনশীল মনোভাব বজায় রেখে চলা এবং সামাজিক সমপ্রীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। ৪. শান্তিপূর্ণ সহ–অবস্থান: হিংসা, দ্বেষ ও সংঘাত এড়িয়ে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করা বা বসবাস করা সকলের কাম্য হওয়া উচিত। ৫. বিদ্বেষ দূর করে: পরস্পর পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা, হিংসা ও উগ্রতা দূর করে সামাজিক সমপ্রীতির মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা সম্ভব। ৬. সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব: যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে সকলের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। প্রত্যেকে যদি প্রত্যেকের অনুষ্ঠান–উৎসবে যাওয়া–আসা করে এবং প্রয়োজনে কাজে–কর্মে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সামাজিক সমপ্রীতি বৃদ্ধি পাবে। ৭. যৌথ অগ্রগতি নিশ্চিত করে: যখন সবাই মিলেমিশে যেকোনো কাজে অগ্রসর হয়, তখন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়। যৌথভাবে যেকোনো কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা গেলেই গড়ে উঠতে পারে সামাজিক সমপ্রীতি। ৮. পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলে: সংঘাত ও হিংসা প্রতিরোধ করে, ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ বা মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সমপ্রীতি থাকলে যেকোনো মতবিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়, যা পরবর্তীতে বড় কোনো সংঘাতের রূপ নিতে পারে না। ৯. সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে: একটি সমপ্রীতিপূর্ণ ও শান্তিময় পরিবেশে যদি মানুষ নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, তা দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে উন্নতির দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ১০. মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়: যেখানে সমপ্রীতি থাকে, সেখানে পরমতসহিষ্ণুতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মতো মানবিক গুণাবলির দ্রুত বিকাশ ঘটে। যে গুণাবলি দিয়ে সামাজিক সমপ্রীতি বৃদ্ধিতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। পরিশেষে আমি বলব, একটি দেশের প্রকৃত ও গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সব ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক ও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।











