সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় নারী ও শিশুসহ পাঁচ বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। নিহতরা হলেন ফাতেমা আক্তার (৩৮), আবসা (৪৪), স্বপ্না আক্তার (৩০), রাকিব (৬) ও আবু সিদ্দিক (৩৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা শাপলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় বাসটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। বাসের যাত্রীরা নেমে সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউ সড়কের পাশে বসে ছিলেন। এ সময় একই দিক থেকে আসা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অবস্থানরত যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের সীতাকুণ্ড স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ লরিটি আটক করেছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই আমিনুজ্জামান বলেন, রাতে শাপলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নেত্রকোনা জেলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ সময় গাড়িটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বাসটি কুমিরা রয়েল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। এতে গাড়ির যাত্রী সবাই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে অন্য একটি গাড়ির অপেক্ষায়। এ সময় একইমুখী একটি লরি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হন। আমরা নিহত ৩ জনকেই হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসছি। বাকিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওখানে দুজনের মৃত্যু হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল জানান, ঘটনাস্থল থেকে লরিটি আটক করলেও এর চালক পালিয়ে গেছেন।












