চট্টগ্রামের অন্যতম শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) দুই দশক পূর্তি হয়েছে। গতকাল সকালে কেক কেটে দুই দশক পূর্তি উদযাপন করা হয়। এ সময় বেপজার কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক, বিভিন্ন কারখানার প্রতিনিধি ও নির্বাচিত শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কেইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লী হংউ, খলিলুর রহমান, শ্রমিক প্রতিনিধি আবু সাঈদ, ইউসুফ আলী সরদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বেপজার সদস্য তানভির হোসেন বলেন, কর্ণফুলী ইপিজেড আজ দুই দশক পূর্তি করছে। এই দুই দশকে এই শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এখানে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের নানা দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দুই দশকে কেইপিজেড ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজার মানুষের। সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া চিটাগাং স্টিল মিলসের পরিত্যক্ত জমিতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠান ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তানভির হোসেন বলেন, ওইদিন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে আজ এখানে এমন গোছানো একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব হতো না।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ বলেন, বন্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের জায়গাকে শিল্পায়নের নতুন ঠিকানায় রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্ণফুলী ইপিজেড উদ্বোধন করেন। এরপর গত দুই দশকে ইপিজেডটি বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৪ সালে স্টিল মিলের জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বেপজার কাছে হস্তান্তরের পর এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। গত দুই দশক ধরে এই শিল্পাঞ্চল দেশের অর্থনীতি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে আসছে।
কেইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, কর্ণফুলী ইপিজেডে বর্তমানে ২৫৮টি শিল্প প্লট রয়েছে। এসব প্লটের মধ্যে ৪৬টি কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং ৩৯টি কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন চলছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষের। কর্মীদের ৬০ শতাংশই নারী। নতুন নতুন শিল্প ইউনিট চালু হলে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের এখানে আর কোনো শিল্প প্লট খালি নেই। সবগুলো বরাদ্দ হয়ে গেছে। কেইপিজেড সম্প্রসারণেরও কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এখানে ইতোমধ্যে ৭৮৫.৮৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন মেশিনারিজ আমদানির মাধ্যমে আরো বিনিয়োগ হচ্ছে। কেইপিজেডে সচেতনভাবে পরিবেশ সুরক্ষা করা হয়। উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদীর পানি পরিশোধন করে এখানে ব্যবহার করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপারেও কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ সচেতন। এই শিল্পাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয় না।












