এ সময়ের আলোচিত ইস্যু বেওয়ারিশ কুকুর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে ঘটে এবং রোগটি একবার প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। তবুও বাংলাদেশে কুকুর ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট জাতীয় নীতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভারতে আদালত প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। জর্জিয়া ও মরক্কো বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বড় পরিসরের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ইসলামেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মহানবীর (সা.) যুগে শিকারি, পাহারাদার ও প্রয়োজনে ব্যবহৃত কুকুর ব্যতীত অন্যান্য কুকুর অপসারণের বিষয়ে নির্দেশনার বর্ণনা ফিকহ ও হাদিসে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ক্ষতিকর প্রাণী থেকে জনসাধারণকে রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিও স্বীকৃত ছিল। পরবর্তীতে ইসলামী আইনশাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মানুষের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ বৈধ, তবে প্রাণীর প্রতি দয়া বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯–এর ১০৫ ধারায় বিপজ্জনক প্রাণীকে আটক, অপসারণ বা প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় একটি সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় নীতি কি এখন সময়ের দাবি নয়।
ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট











