জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে মনে করে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। সংগঠনটি বলছে, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনের স্থায়ী কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দীন চৌধুরী, চেয়ারম্যান এস এম নুরুল হক, মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর, অর্থ সম্পাদক লায়ন নুরুল আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়–ব্যয়ের ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে মানুষকে যেখানে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি তেল শুধু একটি পণ্য নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, পণ্য উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা–বাণিজ্য, খাদ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এর সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ে। ফলে একলাফে ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বহুমাত্রিক ব্যয়ের বোঝা তৈরি করবে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। গণপরিবহনে চলাচলকারী শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের পণ্য সরবরাহব্যবস্থায়। তারা আরও বলেন, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপবে। কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, সবজি, চাল, ডাল, ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি পণ্যের দাম বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাবে বাজারের অন্যান্য পণ্যের মূল্যও ধাপে ধাপে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষিখাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিল্প ও ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সীমিত আয়ের মানুষ। জ্বালানি, যাতায়াত ও খাদ্যপণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়লে এসব মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব চট্টগ্রামের অর্থনীতিতেও পড়বে এবং এর প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












