বিশ্বকাপের শেষ ৩২ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ ২৯ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার প্রতিনিধি জাপান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ম্যাচটি শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে দারুণ ফর্মে থাকা এই দুই দলের ম্যাচটিতে জমজমাট লড়াই হবে এমনই প্রত্যাশা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।
ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ তে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এসেছে। বিশেষ করে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ৪ গোল করে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমনকি দলের প্রয়োজনে নেইমারও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছেন ইতোমধ্যে। অন্যদিকে জাপান গ্রুপ ‘এফ’ থেকে রানার্স আপ হয়ে নকআউট পর্বে গেছে। বিশ্বকাপে জাপান এশিয়ার জায়ান্ট হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দলের দাইচি কামাদা এবং আয়াসে উয়েদার মতো খেলোয়াড়রা দারুণ পারফর্ম করছেন গ্রুপ পর্বে।
অবশ্য হেড–টু–হেড রেকর্ডে ব্রাজিলই এগিয়ে আছে। দুই দল মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ব্রাজিল ১১ বার জিতেছে এবং ড্র হয়েছে ২ বার। একমাত্র জয়টি এসেছিল সর্বশেষ দেখায়, যেখানে জাপান ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ব্রাজিলকে এই ম্যাচের আগে বেশ সতর্ক থাকতে হচ্ছে। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলকে সতর্ক করেছেন তাদের ফুটবল কিংবদন্তী জিকো। কারণ শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জাপান যেকোনো সময় চমক দেখাতে পারে।
১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখে জাপান। এরপর থেকে আর কখনো বিশ্বকাপ মিস করেনি তারা। এই দীর্ঘ যাত্রায় এশিয়ার অন্যতম সেরা দলটি উপহার দিয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে রাশিয়াকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম জয়, চারবার শেষ ষোলোয় ওঠা, কিংবা ২০২২ কাতারে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেওয়া। তবু জাপানি ফুটবলের ইতিহাসে হয়তো কোনো ম্যাচই এতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না, যতটা হতে যাচ্ছে আজ সোমবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে। কারণ এবার তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা এমনিতেই আলাদা। সেখানে প্রতিপক্ষ যদি হয় সেলেসাওরা, তাহলে সেই লড়াই স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাত্রা পায়। ব্রাজিল হয়তো আগের প্রজন্মের মতো অপ্রতিরোধ্য নয়, কিন্তু তাদের নামটিই এখনো প্রতিপক্ষের মনে ভয় আর সমীহ জাগানোর জন্য যথেষ্ট। আত্মবিশ্বাস যতই থাকুক, জাপানের শিবিরে একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। সেটি হলো এগিয়ে যাওয়ার পর দ্রুত গোল হজম করার প্রবণতা। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে দাইজেন মায়েদার গোলে ৫৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। কিন্তু সেই লিড স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় মিনিট। এরপরই সমতায় ফেরে সুইডিশরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও প্রায় একই গল্প। ৫৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই আবার পিছিয়ে পড়ে তারা। যদিও শেষ মুহূর্তে গোল করে নাটকীয় এক ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল জাপান। এই সমস্যাটিই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে দলকে। সুইডেন ম্যাচের পর হিউস্টনে পৌঁছে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনেইয়াসু মিয়ামোতো স্বীকার করেছেন বিষয়টি। বলেন, গোল করার ঠিক পরপরই আমরা প্রায়ই গোল হজম করে বসছি। এই জায়গাটাতে আমাদের আরও অনেক কাজ করার আছে। এই ধরনের পরিস্থিতিগুলো আমাদের দ্রুত শুধরে নিতে হবে।
বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছিল দুই দেশের। ২০০৬ সালের ২২ জুন ডর্টমুন্ডে রোনালদোর জোড়া গোল, জুনিনহো, গিলবার্তোর লক্ষ্যভেদী শটে ৪–১ গোলে ম্যাচটি জেতে ব্রাজিল। জাপান ও ব্রাজিল ম্যাচে গোল হয়েছে মোট ৪৫টি। এর মধ্যে ৩৭টি দিয়েছে ব্রাজিল, বিপরীতে হজম করেছে ৮টি। আর সবচেয়ে বেশি ৯ গোল করেছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে তিনি জাপানের মুখোমুখি হয়েছেন পাঁচটি ম্যাচে।











