চবিতে দোকানিকে আক্রমণ ছাত্রদল নেতার, পরে দুঃখ প্রকাশ

| শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী ক্যাম্পাসের এক দোকানিকে আক্রমণ করেছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলা ঝুপড়ির এক দোকানে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নেতা দুঃখ প্রকাশ করেন। খবর বিডিনিউজের।

দোকানি হামিদ মোহাম্মদ সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫১৬ শিক্ষাবর্ষের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। ওই দোকানির ভাষ্য, মাস কয়েক আগে জালালের নাম করে কেউ একজন ৩০ টাকা বাকি খেয়ে যায়। দোকানি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে বলেন। এরপর জালাল সিদ্দিকী ওই দোকানে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে দোকানি বলেন, ৩০ টাকা আপনার নামে খেয়েছেন, কিন্তু তা পরিশোধ করা হয়নি। তখন জালাল বলেন, আমার নামে কেউ বাকি খেলে আমাকে বলতেন। এ সময় দোকানি বলেন, ক্যাম্পাসে আরও অনেক জালাল আছে, আপনি একাই কি জালাল? এ কথা শুনে জালাল সিদ্দিকী ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানিকে আক্রমণ করে বসেন। তাতে দোকানি সুজন ঠোঁটে আঘাত পান। এসময় সামনে থাকা টেবিল উল্টে গিয়ে দোকানির গায়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ওই দোকানি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন যে, ‘আপনাদের নেতাকর্মীরা খাবার খেয়ে টাকা দেয় না’। জবাবে আমি বলেছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এমন কোনো ইতিহাস নেই। তখন দোকানি আমাকে বলেন, জালাল নামে একজনের কাছ থেকে দুই তিন মাস ধরে ৩০ টাকা পাওনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছি, যদি এমন ঘটনা হয়ে থাকে, আমরা আছি। বিষয়টি আমরা দেখব। হৃদয়ের ভাষ্য, তিনি ওই দোকান থেকে চলে যাওয়ার খানিক বাদে সেখানে আক্রমণের ঘটনা ঘটে বলে জেনেছেন।

দোকানি সুজন বলেন, হৃদয় ভাই যাওয়ার কিছুক্ষণ পর জালাল সিদ্দিকী এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, কেন তার নামে এমন কথা বলা হয়েছে। তিনি আমার সাথে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে আমাকে মারতে আসেন। আমাকে খামচি দিয়ে গলা ধরার চেষ্টা করে। এ সময় আমি পেছনে সরে আসলে দোকানের সামনে রাখা টেবিল উল্টে পড়ে যায় এবং এতে আমার দোকানের পণ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে সে (জালাল) আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, কে নাকি আমার নামে বাকি খেয়ে গেছে। সেটা আমি জানি না। কিন্তু সে (দোকানি) এ কথা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে। আমি ক্যাম্পাসে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আমার কাছে বাকি টাকা পান? দোকানি তখন আমাকে বলেছেন, ‘আপনি কি একাই জালাল নাকি? ক্যাম্পাসে অনেক জালাল আছে।’ একথা শোনার পর আমি নিজের মেজাজ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে বসি। কিন্তু তাকে আমি মারধরও করিনি, দোকান ভাঙচুরও করিনি। বরং পরবর্তীতে এ ঘটনার জন্য তার (দোকানি) কাছে গিয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের সংগঠন বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করেনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজার-মহেশখালী প্রস্তাবিত সেতু দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে
পরবর্তী নিবন্ধনৌকাডুবির কবল থেকে ১১ নারী-শিশুকে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী