চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার উলফাতুর রহমান রাকিব চবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক। এ বিষয়ে তিনি গতকাল বিকালে প্রক্টর অফিসে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে উলফাতুর রহমান রাকিব শাহজালাল হলের সামনে উপস্থিত হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতেই তাকে মারধর করা হয়। এতে তার দুই কান রক্তাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফায়াত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনার ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী মানিকসহ একাধিক সহকারী প্রক্টর আহত হন।
জানা গেছে, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই কর্মীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। তার নাম রাকিব, তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির একজন নেতা বলে জেনেছি। শাহজালালের সামনে সবাই জড়ো হলে মূলত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় যেহেতু আমি নিজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলাম তাই আমিসহ কয়েকজন কিছুটা আঘাত পেয়েছি। এরপরও আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং যেকোনো অপতৎপরতা দমনে সজাগ রয়েছি।’
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করব এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে এমন একটি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আমার সংগঠনের একজন নেতাকে বিনা কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মারধর করে আহত করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এমন ঘটনা যদি ঘটতে থাকে তাহলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের হস্তক্ষেপ ও অশালীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চবি ছাত্রদলের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’










