চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর এলোপাতাড়ি কোদালের কোপে নুরহাবা (২৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাতটার দিকে দোহাজারী পৌরসভার সদর উল্লাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তার স্বামী মো. সলিমকে (২৪) আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা দম্পতি সলিম ও নুরহাবা প্রায় চার–পাঁচ মাস ধরে উল্লাপাড়ার আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। সলিম মাঝির মাধ্যমে দোহাজারী ও আশপাশের এলাকায় মাটি কাটাসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালেও মাটি কাটার কোদাল ও দুপুরের খাবার নিয়ে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন সলিম। কিছুদূর যাওয়ার পর মাঝির মাধ্যমে জানতে পারেন, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত কাজ হচ্ছে না। তখন তিনি বাসায় ফিরে যাওয়ার পথে দেখেন, তার স্ত্রী নুরহাবা বাসায় তালা লাগিয়ে কোথাও যাচ্ছেন।
এ সময় স্ত্রী কোথায় যাচ্ছেন, তা জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সলিমের হাতে থাকা কোদাল দিয়ে নুরহাবার মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সলিম নিজেই তাকে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সাইফুল আলম হাসপাতাল এলাকা থেকে সলিমকে আটক করেন। নিহত নুরহাবা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প–১–এর বাসিন্দা মৃত এরশাদ উল্লাহর মেয়ে। তার স্বামী সলিম একই ক্যাম্পের আবদুল আমিনের ছেলে। তারা ক্যাম্প ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে দোহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন রোহিঙ্গা কলোনিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. টিপু মজুমদার বলেন, ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে তার স্বামীকে আটক করে।
সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, সলিম বেশ কিছুদিন ধরে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করে আসছিলেন। গতকাল সকালে কাজ না থাকায় তিনি বাসায় ফিরে আসেন। তখন স্ত্রীকে বাসায় তালা লাগিয়ে বের হতে দেখে তার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এ কারণে রাগান্বিত হয়ে হাতে থাকা কোদাল দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরে স্বামী ও অন্যরা মিলে নুরহাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে হত্যার খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কৌশলে সলিমকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।












