কক্সবাজারের চকরিয়ায় রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে বনভূমি দখল করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক লাগোয়া কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের কাছে ডুলাহাজারা বনবিটের নিয়ন্ত্রণাধীন মালুমঘাট হাসিনা পাড়ার সামনে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করা হচ্ছে। নারী–পুরুষের সমন্বয়ে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে পাহারায় বসিয়ে সংরক্ষিত বনের বিপুল পরিমাণ জায়গা দখলে নেওয়ার পর সেখানে রাতারাতি গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা বা বসতি।
শুধু তাই নয়, দখলে নেওয়া সংরক্ষিত বনভূমিতে আছে শতবর্ষী কয়েকশ মাদার ট্রি (গর্জন)। এসব গাছের গোড়ার ছাল অপসারণ করা হয়েছে, যাতে গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। একসময় সেসব গাছ ভেঙে পড়লে সেই জায়গারও নিয়ন্ত্রণ নেবে ওরা।
বনবিভাগ জানায়, একই স্থানে নির্মিত অন্তত ১০টি অবৈধ বসতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সম্প্রতি উচ্ছেদ করতে গেলে বনবিভাগের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা হামলার শিকার হন। স্থানীয়রা জানান, বনবিভাগ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চলে যাওয়ার পর আবারও বনভূমি দখলে নিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। এদিকে এ বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে এই প্রতিবেদকের উপর চড়াও হন সশস্ত্র দখলকারীরা। এ সময় চিত্র ধারণ করা মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় বনভূমি দখলকারীরা। পরে স্থানীয় কয়েকজনের হস্তক্ষেপে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দলের রাজনীতিতে যুক্ত একটি সিন্ডিকেট এসব অপকর্ম করছে। সংরক্ষিত বনভূমি দখলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত এবং সাংগঠনিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আমিন আজাদীকে বলেন, হঠাৎ করেই রেঞ্জ অফিসের একেবারে কাছে সংরক্ষিত বনভূমির সমতলের বিপুল পরিমাণ জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিতে রাতারাতি সেখানে গাছ, বাঁশ ও পলিথিন দ্বারা ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ শুরু করে। এই অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক বনভূমি থেকে অন্তত ১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান শেষে চলে আসার পর ফের সেখানে রাতারাতি গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খসরুল আমিন আজাদীকে জানান, যারা সংরক্ষিত বনভূমির দখল প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত তাদের কেউ কেউ এলাকায় প্রভাবশালী। দখলকারীরা সেখানে সশস্ত্র পাহারায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের শিক্ষানবীশ সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামরুল হাসান আজাদীকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় আমিও ছিলাম। বনভূমি দখলকারীরা সেদিন আমাদের উপর আক্রোশ দেখিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। সেখানে আবার পরিকল্পিতভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করব। সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সংরক্ষিত বনভূমির দখল প্রক্রিয়া এবং বনকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা সাড়া দেননি।












