চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল, পুনরায় নির্বাচন কমিশন গঠন, নতুন করে তফসিল ঘোষণা ও ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রস্তাব সমিতির তলবি সভায় কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে গেছে। গতকাল সমিতির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবের পক্ষে ১৭১ জন আইনজীবী ভোট দেন। বিপরীতে প্রস্তাবের বিপক্ষে ২৮৯ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। মূলত প্রস্তাবের বিপক্ষে বেশি ভোট পড়ায় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। তবে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের আগামী ২১ মে’র নির্বাচন বাতিল চেয়ে এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।
আজ বুধবার এ মামলার শুনানির জন্য দিন ধার্য্য রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করছেন যে, আদালত থেকে উপযুক্ত সিদ্ধান্তটিই আসবে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১ মে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য ছিল গত ৪ মে। সেদিন আওয়ামী পন্থীরা সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। তাদেরকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি– এমনই অভিযোগ। একদিন পর তথা ৬ মে জামায়েতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ সমিতির অডিটরিয়ামে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অভিযোগ করা হয় যে, বৈধ ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশিখ প্রার্থীদেরকে ভোটার তালিকাও সরবরাহ করা হয়নি জানিয়ে বলা হয়, তফসিল অনুযায়ী ৫ মে বিকাল ৫ টার মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ কর্তৃক। নির্বাচন বর্জনের উক্ত ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় তফসিল ঘোষণার জন্য তলবি সভা আহবান করে সমিতির কাছে সম্প্রতি একটি আবেদন করে। আবেদনটিতে ১৬৬ জন আইনজীবী সাক্ষ্যর করেন। গতকাল আবেদনটির উপর অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তলবি সভা আহবান করার পাশাপাশি জামায়েতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে। চট্টগ্রামের যুগ্ম সিভিল জজ আদালতে তারা একটি মামলা করেছেন।
এতে পরিষদটির প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলমসহ বেশ কয়েকজন বাদী হয়েছেন। বিবাদী করা হয়েছে– ২ জন নির্বাচন কমিশনারসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরা বেগম জানিয়েছেন, আসন্ন ২১ মে’র নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, আসন্ন এ নির্বাচনে সহ–সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে মোট ২৪ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাকি ৯ পদে একজন করে প্রার্থী আছেন, যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন ৫ হাজারেরও বেশি আইনজীবী।













