পদ্মা অয়েল কোম্পানির ৯ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারকালে একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় পেট্রোলিয়াম সেক্টরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে পতেঙ্গার এভিয়েশন ডিপো থেকে জেট ফুয়েলের চালানটি নিয়ে সাগরিকা এলাকায় বিক্রি করার চেষ্টাকালে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ট্যাংক লরিসহ দুজনকে আটক করে। পরে পদ্মা অয়েলের ডিপো ম্যানেজার, ডিউটি অফিসার, ট্যাংক লরির চালক ও সহকারী মিলে চারজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পতেঙ্গার পদ্মা অয়েল কোম্পানির এভিয়েশন ডিপো থেকে ৯ হাজার লিটার জেট ফুয়েল বোঝাই করে ট্যাংক লরি (চট্টমেট্রো–ম–০৯–০০১০) সাগরিকা এলাকায় বিক্রি করার চেষ্টার সময় সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হয়। তাদেরকে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দামের জেট ফুয়েলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেনি। পরবর্তীতে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে আইনশৃক্সখলা বাহিনী নিশ্চিত হয়, তেলের চালানটি চুরি করে ডিপো থেকে বের করা হয়েছে। চোরাই তেলগুলো বাইরে বিক্রি করতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃক্সখলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, উক্ত ডিপোতে শিফটিং ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করেন কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। সন্ধ্যার পর দিনের পালা শেষে রাতের পালা শুরু হওয়ার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে পুরো এক লরি তেল বোঝাই করে বাইরে নেওয়া হয়। এর সাথে ডিপোর সিকিউরিটি বিভাগ থেকে তেল বোঝাইকারী বিভাগসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের জড়িত থাকার সুযোগ রয়েছে। চক্রটি এভাবে আরো তেল বাইরে পাচার এবং বিক্রি করেছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা।
তেল চুরি এবং পাচারের ঘটনাটি জানাজানি হলে জ্বালানি তেল সেক্টরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ম্যানেজার, ডিউটি অফিসার, ট্যাংক লরির ড্রাইভার এবং সহকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মীর মোহাম্মদ ফখরউদ্দিন উক্ত চারজনকে সাসপেন্ড করেন।
অপরদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) এবং সরকারের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আসাদুল হককে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, পদ্মা অয়েল কোম্পানির উপ–মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল ও পরিকল্পনা) মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, বিপিসির উপ–মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) খন্দকার সাজবীর রহমান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায়কে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে জব্দকৃত ট্যাংক লরির গতিপথ, গন্তব্য, চালানপত্র যাচাই ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন তিন দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।











