যান্ত্রিক সমস্যা, পূর্ণ সক্ষমতায় চলে না ৪ ও ৫ ইউনিট

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট দুটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রয়োজন

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কাপ্তাই (কর্ণফুলী) পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০০ মেগাওয়াটের ৪ ও ৫ নং ইউনিট দুটি দীর্ঘদিন থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটির জেনারেটর ধারণকারী ধাতব কাঠামোয় ফাটল দেখা দিয়েছে অনেক আগে। এর মধ্যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে ১০০ মেগাওয়াটের ইউনিট দুটি কোনো রকমে চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইউনিট দুটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সেগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই দুটি ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ ওভারহল বা সংস্কার প্রয়োজন। ইউনিট দুটির নির্ধারিত সংস্কার ও মেরামতকাজের সময়সীমা বহু আগেই শেষ হয়েছে। ইউনিট ৪ সর্বশেষ সংস্কার করা হয় ২০১০ সালের জুনে। ইউনিট ৫ সংস্কার করা হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে।

তবে বিদ্যুতের চাহিদার কারণে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে ইউনিট দুটি চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা করে প্রায় সময় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাঝেমধ্যে ইউনিট দুটি বন্ধও রাখতে হয়। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এর আগেও বড় ধরনের যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল এই ইউনিট দুটিতে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলীরা জানান, কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাদের মতে, এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত কম। জ্বালানি খরচ না থাকায় কখনো কখনো প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এক টাকারও নিচে নেমে আসে। ইউনিট দুটির টারবাইন অংশ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হলে পূর্ণ সক্ষমতায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা হলো ২৪২ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রে মোট ৫টি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রের ধরন ও পানির প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সরকারি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নথিতে এর সম্মিলিত সক্ষমতা ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, ইউনিটগুলো তোশিবার প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় তোশিবা ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংস্কার বা মেরামত করতে পারে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবে টার্মিনালে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় সিঙ্গাপুরি কোম্পানি
পরবর্তী নিবন্ধঅস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি