গরুর মাংস খেয়েও ফিট থাকার কৌশল

হাসিনা আক্তার লিপি | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

সারা বছর যতটুকু মাংস খাওয়া হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মাংস খাওয়া হয় কুরবানির ঈদে। উৎসবে প্রত্যেকেরই ছুটি থাকে পরিবারপরিজন নিয়ে বেড়ানো, চিন্তামুক্ত জীবন অফুরন্ত খাওয়ার আয়োজন। কিন্তু সবার আগে মনে রাখতে হবে স্বাস্থ্যের কথা। সবাইকেই ফিট থাকতে হবে, তবেই সবাই মিলে উৎসবে আনন্দ অটুট থাকবে।

ফিট থাকার কৌশল : প্রথমেই জানতে হবে গরুর মাংস খুবই পুষ্টিকর উচ্চমানের প্রোটিনযুক্ত একটি খাবার। শুধুমাত্র কাটার কৌশল, রান্নার প্রক্রিয়া এবং গরুর কোন কোন অংশে বেশি ক্ষতিকর চর্বি কোলেস্টেরল থাকেতা না জানার কারণে, এতো পুষ্টিকর একটি খাবার ক্ষতিকর হয়ে উঠে। আসুন আজ জানবো গরুর মাংস খেয়েও কিভাবে ফিট থাকা যায়

প্রথমত মাংস কাটার নিয়ম : মাংসের গায়ে যে সাদা রঙয়ের চর্বি থাকে তা সমপূর্ণ কেটে ফেলে দিতে হবে। মাংস যতটা সম্ভব ছোট টুকরা করে কাটলে চর্বি কমে যায়।

ধোয়ার নিয়ম : ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে চর্বি বেরিয়ে যায়।

রান্নার নিয়ম : গরুর মাংস রান্নার সময় সব মসলা দিয়ে (যা যা মাংস রান্নায় দেয়া হয়) মাখিয়ে, কিছু টক দই কিছু টমেটো দিয়ে মাখিয়ে চুলায় বসিয়ে দিয়ে (সমপূর্ণ তেল ছাড়া) রান্না করলে অসাধারণ টেস্ট তো হবেই, সেই সাথে ক্যালরি কমে যাবে। কোলেস্টেরলবিহীন, চর্বিবিহীন সুস্বাদু রান্না হবে। এছাড়াও চট্টগ্রামের মেজবান খুবই জনপ্রিয়। এতে বুটের ডাল, বিভিন্ন সবজি দিয়ে যে মাংসটি রান্না হয় তাও পুষ্টিকর। এতে সবজি থাকায় ব্যালেন্স হয়। এছাড়াও রান্না মাংস ঠাণ্ডা হয়ে গেলে ওপরে যে হলুদ রঙয়ের লেয়ার জমে, তা যদি তুলে ফেলে দেয়া হয় এবং পুণরায় গরম করে খেলেও ফ্যাট ফ্রি মাংস পাওয়া যায়। একমাত্র কোরবানি ঈদে যে নলা, ভুড়ি, মগজ, কলিজা, জিহ্বা খাওয়ার প্রচলন আছে। অনেকে, সারা বছর কিনে খায় না, কিন্তু এই সময়টাতে খায়। মনে রাখতে হবে, আপনার ডায়বেটিস, হৃদরোগ, হাইপারটেনশন, রক্তের চর্বি বেশি, কিডনির রোগ এবং ওবেসিটি আছে কিনা? থাকলে এক্সপার্টের সাথে কথা বলে তবেই খাবেন। কতোটুকু কিভাবে এসব জেনে খেলে অনেক ভালো থাকবেন।

১০০ গ্রাম গরুর মাংসের পুষ্টিগুণ : ক্যালরি আছে ২৫০ কিক্যালরি, প্রোটিন ২৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মি. গ্রাম, লোহা ২.৬ মি. গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ২১ মি. গ্রাম, ভিটামিন ৭ মি. গ্রাম, পটাশিয়াম ৩১৮ মি. গ্রাম, সোডিয়াম ৭২ মি. গ্রাম। এছাড়াও পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১, বি২, বি৬ এবং জিংক থাকে।

উপকারিতা : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশী, দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভুমিকা রাখে, দেহের বৃদ্ধি ও বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে, ক্ষত নিরাময় করে, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, স্মৃতিশক্তি ও দেহ কর্মোদ্যম রাখে।

কার জন্য কতোটুকু দরকার : গরুর মাংসে আছে প্রচুর প্রোটিন। প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে একজন মানুষের দেহের ওজনের ওপর। ধরা যাক, একজন মানুষের আদর্শ ওজন ৬৪ কেজি। তিনি যদি নিরোগ থাকেন তাহলে প্রতিদিন তার ৬৪ গ্রামের মতো প্রোটিন প্রয়োজন। তবে যদি কিডনির রোগ থাকে তবে অবশ্যই প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবেতা অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শে। মেয়েদের মাসিক চলাকালে, গর্ভাবস্থায়, প্রসূতি অবস্থায় এবং বর্ধনশীল বয়স অর্থাৎ ১৮ বৎসরের নীচে এবং যারা কম ওজনের আছে তাদের জন্য এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। গরুর মাংস সব ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয়। রান্নার পদ্ধতি জেনে রান্না করুন এবং পরিমিত পরিমাণ খেয়ে ফিট থাকুন। উৎসব হয়ে উঠুক সবার জন্য আনন্দময়।

লেখক : বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী ছিল : জসিম উদ্দিন এমপি
পরবর্তী নিবন্ধবোধনের রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী