খেলাপি ঋণকে দেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থ যাতে প্রকৃত ও যোগ্য উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক খাতসহ উৎপাদনশীল ও টেকসই ব্যবসায় অর্থায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হবে।
গত ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম ক্লাবের টেনিস কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ব্যাংকার্স ক্লাব–চট্টগ্রাম আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি ‘ওয়ান–টাইম এক্সিট পলিসি’ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ব্যাংকারদের আরও দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. মোশতাকুর রহমান বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানো গেলে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রামের সভাপতি মো. হানিফ মিয়া। বক্তব্য দেন ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রামের সেক্রেটারি আনোয়ার উদ্দীন এবং ক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি রাশেদুল আমীন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রামের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত অডিও–ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্লাবের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রোসাঙ্গীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়েস চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান, জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার এবং ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রামের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় দেশের প্রধান বাণিজ্যিক শহরগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ব্যাংকার্স ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরে ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রাম। প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা, জ্ঞান বিনিময়, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য এ ধরনের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের ব্যাংকার্স ক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়, করপোরেট মেম্বারশিপ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং একটি স্থায়ী তহবিল গঠনের বিষয়ও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










