আনোয়ারায় অবস্থিত কেইপিজেডে আবারও বন্য হাতি তাণ্ডব শুরু করেছে। দেয়াং পাহাড়ে অবস্থানরত হাতিগুলো খাবারের সন্ধানে গিয়ে মাঠের ফসলসহ বিভিন্ন ঘরবাড়ি, দোকান ও স্থাপনা বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলা ও সন্ধ্যায় কারখানা ছুটির সময় কেইপিজেডে হাতির বিচরণের কারণে ৪০ হাজার শ্রমিকের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিগুলো খাবারের সন্ধানে প্রতি রাতে লোকালয়ে স্থানীয়দের বসতঘর, দোকানপাট ও মাঠের ফসল বিনষ্ট করে যাচ্ছে। এতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অতি দ্রুত হাতিগুলো চুনতি অভয়ারণ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেয়াং পাহাড়ে অবস্থানরত হাতিগুলো কেইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানার ব্যাপক ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি কেইপিজেডের সবুজায়ন প্রকল্পের মূল্যবান গাছপালা বিনষ্ট করে যাচ্ছে। গত বছর দিনের বেলা প্রকাশ্যে হাতির আক্রমণের শিকার হয় কেইপিজেডের কোরিয়ান বিনিয়োগকারী। এতে শিল্প বিনিয়োগেও প্রভাব পড়ছে। সেই সাথে হাতিগুলো সন্ধ্যার আগে প্রধান সড়কগুলোতে অবাধে বিচরণ করার ফলে কেইপিজেডে কর্মরত ৪০ হাজার শ্রমিকের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের অধিকাংশ নারী শ্রমিক। কেইপিজেড শিল্পজোনে কর্মরত শ্রমিক ইয়াছমিন বলেন, ইদানিং হাতিগুলো দিনের বেলায়ও কারখানা এলাকা দিয়ে চলাফেরা করে। সন্ধ্যার আগে আগে প্রধান সড়ক কিংবা সড়কের আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের মাঝে ভয় ভীতি বিরাজ করে। আকবর নামে এক শ্রমিক বলেন, বুধবার (গতকাল) দুপুর একটায় কারখানার বিরতির সময় বিশালাকৃতির ২টি হাতি এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।
স্থানীয় বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামোর বাসিন্দা ফরহাদুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে হাতিগুলো আনোয়ারার দেয়াং পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে নারী ও শিশুসহ ২৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ৩ শতাধিক মানুষ। শত শত বাড়িঘর দোকান ভাঙচুর হয়েছে। ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন বাগানের ক্ষতি করেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে অনেকদিন ধরে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি স্থানীয়রা আন্দোলনে নেমেছিল। স্থানীয় প্রশাসনের হাতি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল।
বটতলী হাজীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক জানান, প্রতিরাতে হাতি এসে আক্রমণ করে। সন্ধ্যা হলে লোকজন হাতির ভয়ে ঘরের বাইরে যেতে পারে না। বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গত এক সপ্তাহে কলেজের সামনে অবস্থিত ৪/৫টি দোকানে একাধিকবার হাতি হামলা করে দোকান ভেঙে দেয় এবং মালামাল খেয়ে বিনষ্ট করে। হাতিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
কেইপিজেডের উপ–মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান জানান, হাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। দিনে দুপুরে হাতিগুলো কেইপিজেড এলাকায় বিচরণ করে। গত বছর একজন কোরিয়ান বিনিয়োগকারী হাতির আক্রমণে মারাত্মকভাবে আহত হয়। হাতির আক্রমণে আমাদের সবুজায়ন প্রকল্পের বিপুল ক্ষতি হয়েছে।











