কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ–সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ১৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে হোসেন নূর আবিদ, মোস্তফা ওবায়দুল, তাকবির হাবিব, আরাফাত আবির, মো. ইমরান, আব্দুল্লাহ আল তৌসিফ, আল আমিন, আদিত্য রায়, মো. হাসান খন্দকার, মেহেরাব হোছাইন, মোস্তাকিন, তারেক হোছাইন ও জাহিদ। আহতরা সবাই ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। সংঘর্ষের পর রাতেই বিএসপিআই কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আহত ১৩ জনের মধ্যে ৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। চার জন ছাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসা নিচ্ছে। গতকাল শনিবার চমেকে গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাত করেছেন বলে জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি তদন্তে অটোমোবাইল টেকনোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রহমত উল্ল্যাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
জানা যায়, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক ফোরাম ও ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে রাত সাড়ে ১০টায় ছাত্রাবাসে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী রহমত উল্ল্যাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দুইটি পক্ষ বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাতে–পায়ে ইনজুরি বেশি হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা কিনা জানতে চাইলে প্রকৌশলী রহমত উল্ল্যাহ বলেন, ফেসবুক পোস্ট করা নিয়ে নয়। শিক্ষার্থীরা দুইটি পক্ষের মধ্যে একের পরের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব নোটে লিখতো। সেটা কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তদন্তটা আমরা শুরু করেছি তবে এখনো ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারিনি।
এদিকে, কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।












