কাপ্তাই জেটিঘাটে ফেলা হচ্ছে টন টন ময়লা

দূষিত হচ্ছে লেক

কাপ্তাই প্রতিনিধি | শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

বৃহৎ কাপ্তাই লেকের শুরু কাপ্তাই জেটিঘাট থেকেই। ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই কাপ্তাই লেক সংলগ্ন এই জেটিঘাটেরও পথ চলা শুরু হয়। ব্যবসায়িক বিবেচনায় কাপ্তাই জেটিঘাটের গুরুত্ব অপরিসীম। এই জেটিঘাট দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেক সংলগ্ন ৬টি উপজেলায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ইঞ্জিন বোটে চড়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। জেটিঘাটে রয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের অধীনস্থ মাছ আহরণের পন্টুন। এই পন্টুনে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ আহরণ করা হয়। জেটিঘাট দিয়ে দৈনিক শতশত ট্রাক বোঝাই কাঠ, বাঁশ, কলা, কাঁঠাল, আম, লিচুসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহণ করা হয়। জেটিঘাটে প্রতি শনিবার হাটবার বসে। প্রায় ২ হাজার ক্ষুদ্র দোকানি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাটবারে বিকিকিনি করতে আসেন।

অতি ব্যস্ত এই জেটিঘাটে মানুষের পদচারণা যেমন অনেক বেশি থাকে তেমনি এখানে বিপুল পরিমাণ মনুষ্য সৃষ্ট বর্জ্যও তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রতি হাটবারে প্রায় ২ হাজার ক্ষুদ্র দোকানির দ্বারা টনের পর টন বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। জায়গা না থাকায় যাবতীয় ময়লা আবর্জনা জেটিঘাট সংলগ্ন কাপ্তাই লেকে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে কাপ্তাই লেকের জেটিঘাট অংশের অনেক বিশাল এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। জেটিঘাটে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌ অভ্যন্তরিন লঞ্চ ঘাটে যাতায়াতের জন্য সরকারিভাবে যে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল সেই সিঁড়ি এখন ময়লা আবর্জনার চাপে পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেটিঘাটের পন্টুন পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাটবারের ময়লা আবর্জনা ছাড়াও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার যাবতীয় ময়লা আবর্জনাও কাপ্তাই লেক সংলগ্ন জেটিঘাটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে পন্টুনে যাতায়াতে ব্যবহারের জন্য সিঁড়ি এখন আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছেনা। ময়লা আবর্জনায় কাপ্তাই লেকের বিশাল এলাকা ভরাট হয়ে গেছে।

গত ১১ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাপ্তাই লেকের জেটিঘাট এলাকা জুড়ে পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা জমে রয়েছে। জেটিঘাটের পাশে জমে থাকা শতশত টন বর্জ্য বৃষ্টি হলেই পানির স্রোতের সাথে কাপ্তাই লেকে গিয়ে পড়ে। স্থানীয় বোট চালক হুমায়ুন কবির বলেন, জেটিঘাটের ময়লা আবর্জনা কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মুখে গিয়ে জমা হচ্ছে। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির ধারা প্রবাহিত হতে পারেনা। স্থানীয় মোঃ রব্বানী জানান, জেটিঘাটের ময়লা আবর্জনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলের মুখে গিয়েও জমা হচ্ছে। এই ময়লা আবর্জনার কারণে কাপ্তাই লেকের গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মোঃ ইউসুফ মিয়া বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। জায়গা না থানায় বছরের পর বছর সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা সবাই জেটিঘাটে ফেলছেন। এর প্রতিকার দরকার বলেও তিনি জানান। জেটিঘাটে লেকে ময়লা আবর্জনা ফেলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাটের চতুর্দিকে যেসব জায়গা জমি রয়েছে তার কিছু অংশের মালিক বন বিভাগ, কিছু অংশের মালিক কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কিছু অংশ বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের।

কাপ্তাই জেটিঘাটে কোন মৌজা নাই। মৌজা না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য স্থান নির্বাচন করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। যে কারণে জেটিঘাট এবং আশপাশের যাবতীয় ময়লা আবর্জনা স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ কাপ্তাই লেক সংলগ্ন জেটিঘাটে ফেলছেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে জেটিঘাটে আমরা একটি গণ শৌচাগার নির্মাণ করে দিয়েছি। শৌচাগার ভরাট হেেল ময়লা ফেলার জন্য কোথাও জায়গা পাওয়া যায়না। অনেক সময় মেথররা শৌচাগারের ময়লা বস্তায় ভরে এখানে সেখানে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি জানান। চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বলেন, জেটিঘাটের ময়লা আবর্জনায় কাপ্তাই লেক ভরাট হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা পন্টুনে উঠানামা করতে পারছেননা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রহ.) স্মরণে সেমিনার আজ
পরবর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল