এসডিজি গোল, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন

ডেইজী মউদুদ | শনিবার , ১৬ মে, ২০২৬ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

এসডিজি গোল (SDG)-এর পূর্ণ রূপ হলো Sustainable Development Goals. এর অর্থ হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। যা ২০১৫ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা। এটি “কাউকে পেছনে ফেলে নয়” ( No one left behind) নীতিতে বিশ্বাসী, যার ১৭ টি প্রধান লক্ষ্য এবং ১৬৯ টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই গোলের এই ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার ৫ নাম্বারটি হলো জেন্ডার সমতা। এই জেন্ডার সমতার প্রধান লক্ষ্য হলো সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত স্থায়ী ভারসাম্য। এই লক্ষ্যমাত্রার আবার ৯ টি লক্ষ্য এবং ১৪ টি সূচক রয়েছে। লক্ষ্যগুলোর মাঝে ৬ টি হলো, .ফলাফল ভিত্তিক সর্বত্র সকল নারী ও মেয়েদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান ঘটানো ২.নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা ও শোষণের অবসান ৩.শিশু, বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ, . মহিলাদের যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো ক্ষতিকারক অভ্যাসগুলো দূর করা ৫.অবৈতনিক যত্নের মূল্য বৃদ্ধি এবং ভাগকরা ঘরোয়া দায়িত্বের প্রচার ৬.নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন প্রজনন অধিকার এবং স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ৩টি উপায় হলো: অর্থনৈতিক সম্পদ, সম্পত্তির মালিকানা এবং মহিলাদের জন্য আর্থিক পরিষেবাগুলির সমান অধিকার বৃদ্ধি করা, প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রচার, লিঙ্গ সমতার জন্য নীতি গ্রহণ, শক্তিশালীকরণ এবং আইন প্রয়োগ করা। মূলত ‘কাউকে পিছিয়ে রাখা হবেনা’ এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দ্রুত অগ্রগতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

প্রথমেই বৈষম্য ও সহিংসতা যা লিঙ্গসমতা অর্জন এবং সমস্ত নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অন্তরায়। লক্ষ্যগুলো যদিও একটি অপরটির সাথে সম্পৃক্ত তবুও এগুলোর নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সেগুলোর মাঝে রয়েছে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ূ পরিবর্তন, লিঙ্গ সমতা, জ্বালানি, ক্ষমতায়ম, পরিবেশ ও ন্যায়বিচার। এসডিজি মূলত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যকে (এমডিজি) প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০৩০ এজেন্ডাতে জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলের দলিল হলো “আমাদের বিশ্বকে রূপান্তর করা, টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা নামে একটি নথি। এর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক অগ্রগতি অর্জন, ন্যায়বিচার প্রবেশাধিকার এবং আইনের শাসন এবং কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দেয়া। নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, শালীন জীবিকা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ প্রদান করা টেকসই অর্থনীতির ইন্ধন যোগাবে এবং সমাজ ও মানবতাকে উপকৃত করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে লিঙ্গ সমতার জন্য বৈষম্যের অনেকগুলো মূল কারণ দূর করার লক্ষ্যে পুরুষ নারীর প্রয়োজন, সহ ব্যক্তিগত এবং সরকারি ক্ষেত্রে নারী অধিকারকে হ্র্রাস করে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং ধর্ষণ নির্মূল করা একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়, কারণ এটি একটি মূল বাধার লক্ষণ। লিঙ্গসমতাকে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটিয়েছে তবে এমন একটি বিশ্বের প্রতিশ্রুতি যেখানে প্রতিটি মহিলা এবং মেয়ে সম্পূর্ণ লিঙ্গ সমতার অগ্রাধিকার পাবে এবং ডিজিটাল ক্ষমতায়নসহ তাদের ক্ষমতায়নের জন্য সমস্ত আইনি, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাধাগুলো এখনো রয়েছে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শালীন জীবিকা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্বকে সমান এক্সেসের সাথে নারী ও মেয়েদের প্রদান, টেকসই অর্থনীতির লালনপালন এবং ব্যাপকভাবে সমাজ ও মানবতাকে উপকৃত করবে। লিঙ্গসমতা অর্জনের জন্য বলবৎযোগ্য আইনের প্রয়োজন হবে, যা সমস্ত নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নকে উন্নীত করে এবং সমস্ত মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার প্রয়োজন। বিষয়গুলো লিঙ্গবৈষম্যের অবসান এবং প্রচার মাধ্যমে নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নের আহবান জানায়। আসলে এসডিজি গোলএ নারী এবং মেয়েদের জন্য কি কি সুবিধা এবং অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা প্রচারে এবং আলোচনায় খুব একটা আসে না।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারী আর মেয়েরা যে পরিমাণ সহিংসতার শিকার হচ্ছে, এর প্রতিবাদ হিসেবে জাতিসংঘের কাছে নারীরা কী কী সুবিধাগুলো পেতে পারে, জেন্ডার সমতায় জাতিসংঘ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, সব কিছুই কিন্তু এসডিজি গোলে অন্তর্ভুক্ত আছে। বিষয়গুলোকে সহজভাবে আলোচনায় আনা এখন জরুরি। নারী সমাজেরও উচিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং আওয়াজ তোলা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাল-নালা পরিষ্কার রাখতে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধবোকাবাক্সতে বন্দি