আয়েশা আক্তার (১০) ও আমেনা বেগম (১১) দুই বোন। এক সাথে তাদের বেড়ে ওঠা। এক সাথে কোরআনের আলোয় আলোকিত হওয়া। মর্মান্তিকভাবে এক সাথেই চলে গেল দুই বোন। অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআনের ১৭ পারা করে হেফজ করেছিল তারা। তাদের মিষ্টি কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াতে মুখরিত হতো ঘর। কিন্তু আজ সেই ঘরেই কোরআন তিলাওয়াতের বদলে শোনা যাচ্ছে বুকফাটা কান্না। যে মা–বাবা প্রতিদিন মেয়েদের মুখে কোরআনের আয়াত শুনতেন, আজ তাদেরই দেখতে হচ্ছে দুই আদরের মেয়ের নিথর মুখ।
গতকাল শনিবার বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কলাউজান খালাসির পাড়ার একটি পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা একই উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফারেঙ্গা মাঝের খুল এলাকার হাফেজ মোহাম্মদ ইউনুছের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা হাফেজ ইউনুছ পশ্চিম কলাউজান শাহ্ মজিদিয়া হেফজখানার শিক্ষক। চাকরির সুবাদে তিনি সপরিবারে হেফজখানার পাশের এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের মা–ও একজন হাফেজা। দুই বোন স্থানীয় হযরত খদিজাতুল কুবরা (রা.) মহিলা মাদরাসার ছাত্রী ছিল। পাশাপাশি মা–বাবার তত্ত্বাবধানে বাসায় তারা কোরআন হেফজ করছিল। ঘটনার দিন দুপুরে দুই বোন বাসার পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। দীর্ঘ সময় পরও তারা বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই পুকুরে গোসল করতে নামেন। এ সময় তার পায়ে একটি শিশুর শরীরের স্পর্শ লাগে। পরে পানির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর পুকুরে আরও তল্লাশি চালিয়ে অপর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুট্টো জানান, দুই বোন একসঙ্গে পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গোসলের সময় এক বোন পানিতে ডুবে গেলে তাকে বাঁচাতে অপর বোন এগিয়ে যায়। এ সময় সেও পানিতে ডুবে যায়। এতে পুকুরে ডুবে দুই বোনের একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এজাজুল হক শিহাব জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই বোনকে স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জানে আলম জানান, একই দিন রাতে নামাজে জানাজা শেষে দুই বোনকে নিজ এলাকার সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।











