চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পড়ে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার। ২০০৩ সাল থেকে বন্দরের শেডে পড়ে ছিল এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল। গতকাল শনিবার সকালে কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বন্দর থেকে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল বিশেষ যানবাহনে করে নারায়ণগঞ্জের ‘ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের’ উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ থেকে এসব পণ্য ধ্বংস করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কনটেইনার জট নিরসনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী অ্যাসিডজাতীয় পণ্য ধ্বংসের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৯টি কনটেইনার বন্দর থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় বের করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় পাঠানো হয়েছে। পণ্যগুলোর সবই অ্যাসিড ও অ্যাসিড জাতীয়। রোববার (আজ) থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় ‘ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড’–এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কনটেইনার জট নিরসনে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম ২০০৩ সাল থেকে পড়ে থাকা এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী অ্যাসিড এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে শনিবার সকাল থেকে বন্দর থেকে রাসায়নিকবোঝাই যানবাহনগুলো পুলিশ এসকটের মাধ্যমে ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা এসময় নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও বিএনএসিডব্লিউসি’র সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে বিপজ্জনক রাসায়নিকগুলো পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।
এর আগে ২০২১ সালে বন্দরের ‘পি’ শেডে পড়ে থাকা ২০ বছরের পুরোনো ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের জন্য সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল। এবার করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে।













