কেইপিজেড, প্রস্তাবিত চায়না ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী টানেলের কেন্দ্রস্থল চাতরী চৌমুহনী বাজারে মানুষের দুর্ভোগ ঘুচাতে এবার বড় প্রকল্পের দিকে হাঁটছে সরকার। অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতা, যানজট, গাড়ি পার্কিংসহ নানান সমস্যায় ঘেরা থাকা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অতি গুরুত্বপূর্ণ চাতরি চৌমহনী বাজার ঘিরে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুখবর দিল আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম শহরের অতি কাছে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারার প্রবেশ দ্বারে অবস্থিত এ বাজারের জন্য আনোয়ারা আরো একধাপ এগিয়ে আছে।
শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই বাজার থেকে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছে। বাজারে রয়েছে কয়েক হাজার ছোট–বড় দোকান। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনতে এই বাজারে ভিড় করে। বর্তমানেও বাণিজ্যিক বিবেচনায় এ বাজারের চতুর্পাশের দুই শতক জমি অর্ধ কোটি টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। আনোয়ারার কেইপিজেড, কাফকো, সিইউএফএলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক এই বাজার দিয়ে চলাফেরা করেন। তাই বাণিজ্যিক বিবেচনায় উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে পরিচিতি পেলেও বাজারে অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগেও বেশি সময় ধরে এ বাজারের উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। যার কারণে এই বাজারের উন্নয়ন নিয়ে হতাশা দীর্ঘদিনের। এরই মাঝে গত ৪ দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ বাজারের জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার পথচারী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিন উদ্দীন সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। এর পর তিন দিন ধরে এস্কেভেটর দিয়ে ড্রেন কেটে জমে থাকা জলাবদ্ধতার ময়লা পানি অপসারণ করা হলে জনদুর্ভোগ নিরসন হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এরই মাঝে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাতরি চৌমহনী বাজারের উন্নয়নে স্থায়ী পরিকল্পনার কথা জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাকিল বিন ইসলাম বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ড গত তিনদিন ধরে একাধিকবার বাজার পরিদর্শনে এসেছেন। তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং জলাবদ্ধতার ময়লা পানি অপসারণে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানান, আনোয়ারায় সড়ক বিভাগের উদ্যোগে চলমান ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাতরি চৌমহনী বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ ফুট চওড়া ও ১২শ ফুট দৈর্ঘ্যের আরসিসি ড্রেন ও ক্রস ড্রেন নির্মাণ কাজ দুয়েক মাসের মধ্যে শুরু হবে। যানজট নিরসনে বাজারে দুই স্থানে গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হবে। বাজারের মুখ বর্তমান অবস্থা হতে ৬০ ফুটে প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে বাজারের পুরনো বিদ্যুত লাইন অপসারণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন বলেন, চাতরি চৌমহনী বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, যানজট, সড়কে গাড়ি পার্কিংসহ নানা সমস্যা দূরীকরণে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে মেগা প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরেই চাতরি চৌমহনী বাজারে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। তাছাড়া বর্তমানে সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে এ প্রকল্পের আওতায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে গাড়ি পার্কিংসহ পরিকল্পিত বাজার উন্নয়নের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিটু চাকমা জানান, বর্তমানে চাতরি চৌমহনী বাজার থেকে মেরিন একাডেমি পর্যন্ত ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে ।














