ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরো ৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে চারজন ইউসিবির কর্মকর্তা, বাকি তিনজন আরামিট পিএলসির কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুদক পিপি মোকাররম হোসেন দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ২০ মে পরবর্তী সাক্ষ্য কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের ২৪ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ–পরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে জাবেদসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদক জানায়, ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তদন্তে ৩৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমাদন সাপেক্ষে জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ৩৬ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী, ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সবুর, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজি আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউসিবির পোর্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, শাখার সাবেক শাখা প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক ক্রেডিট অফিসার জিয়াউল করিম খান, সাবেক এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন, আরামিট পিএলসির প্রটোকল অফিসার ও ভিশন ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, আরামিট পিএলসির কর্মী ও মডেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আরামিট পিএলসির এজিএম ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আব্দুল আজিজ, আরামিটের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল, ইউসিবির সাবেক পরিচালক বশির আহম্মদের কর্মচারী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, হুন্ডি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ, তার ভাই মো. শহীদ, সহযোগী মো. সুমন, আরামিট পিএলসির ড্রাইভার মো. ইলিয়াস তালকুদার, তার প্রতিবেশী ওসমান তালুকদার, আরামিটের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী, মো. ইয়াছিনুর রহমান, কর্মচারী মো. ইউছুফ চৌধুরী ও মো. সাইফুল ইসলাম।
চার্জশিটে বলা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয় এবং ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা, হলুদ ও মটর ক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হলে জামানত ছাড়াই উক্ত আবেদন মঞ্জুর হয় এবং একই বছরের ১২ মার্চ উক্ত ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আত্মসাৎকৃত ঋণের গন্তব্যস্থল বিষয়ে বলা হয়, আত্মসাৎকৃত অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে দুবাই পাচার করা হয়। পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।














