ঈদের ছুটি শেষ, অফিস-আদালতে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২ জুন, ২০২৬ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ৭ দিনের ঈদের ছুটি শেষে খুলেছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ বিরতির পর কর্মক্ষেত্রে ফিরেছেন কর্মজীবী মানুষ। গতকাল সকালে অফিস শুরুর প্রথম প্রহরেই কর্মকর্তাকর্মচারীদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে দেখা গেছে চট্টগ্রামের আদালতসহ সরকারিবেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে।

সকাল ৯টার পর থেকেই চট্টগ্রাম আদালত, জেলা প্রশাসন, দুদক কার্যালয়ে কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির রেশ কিছুটা থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কাজের স্বাভাবিক গতি ফিরতে শুরু করেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে কর্মদিবস শুরু করেন অনেকেই।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে কর্মীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। তবে অনেক কর্মকর্তাকর্মচারী চট্টগ্রামের বাইরে থাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাকর্মচারীরা প্রথম কার্যদিবসেই জরুরি ফাইল বা অমীমাংসিত কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ততা ছিলেন। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রাহকদের উপস্থিতি ও লেনদেনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। কর্মক্ষেত্রে ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের পাশাপাশি কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাড়াও ছিল স্পষ্ট। নগরীর কোতোয়ালী, লালদিঘী, আগ্রাবাদ, জুবলি রোডসহ নানা এলাকায় থাকা ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। ছুটির কারণে জমে থাকা আর্থিক কার্যক্রম ও চেক ক্লিয়ারিংয়ের কাজে ব্যাংক কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। গ্রাহক সেবায় কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখতে ব্যাংকগুলোতে বাড়তি তৎপরতা দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় গতকাল সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরমুখী মানুষর স্রোত শুরু হয়েছে। যদিও এখনো অনেকে ঈদের ছুটিতে গ্রামে অবস্থান করছেন। তবে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ থাকায় অফিসগামীদের যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আনন্দ কাটিয়ে কাজে ফেরাটা একটু কঠিন হলেও, দায়িত্ব পালনের তাগিদে সবাই সময়মতো অফিসে যোগ দিয়েছেন। জমে থাকা ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দিকেই তাদের মূল নজর।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, অফিসআদালতগুলো বন্ধ থাকায় ব্যস্ত নগরী হয়ে পড়ে একেবারে শান্ত। রাস্তার ধারের টং দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই ছিল ফাঁকা। কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও মানুষের ভিড় তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। অফিসআদালত খোলায় এখন ফের কর্মব্যস্ত হয়ে পড়বে সর্বত্রই, বলছে সংশ্লিষ্টরা।

আদালত পাড়ায় চট্টগ্রাম মহানগর হাজতখানার পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম আজাদীকে বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই কাজে ফিরেছে। তবে বিচারপ্রার্থী ও আসামির উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। স্বাভাবিক দিনে নগরীর ১৬ থানা থেকে গড়ে ১১০ থেকে ১২০ জন আসামি নিয়ে আসা হলেও আজকে (সোমবার) পেয়েছি মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো। অন্যদিকে কারাগার থেকে যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জনের মতো আসামি আসতো, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো। সেই হিসেবে আমাদের কাজের চাপ একটু কমই ছিল। তিনি বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে ফের স্বাভাবিক হয়ে উঠবে আমাদের কার্যক্রম।

সিএমএম আদালত৩ এর বেঞ্চ সহকারী তারিকুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, আজকে (সোমবার) আমাদের স্যার নেই। ছুটিতে আছেন তিনি। সেই হিসেবে আমাদের তেমন কাজ ছিল না। চার্জ কোর্টে কিছু জামিন শুনানি হয়েছে শুধু। আরেক বেঞ্চ সহকারী বলেন, কাজকর্ম হয়েছে তবে কিছুটা কম। স্বাভাবিক দিনে এদিকওদিক ফিরে দেখার সুযোগ থাকে না। সেই হিসেবে আজকে একটু রিলাঙ ছিলাম আমরা।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম শাখা) শাকিব শাহরিয়ার আজাদীকে বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর অফিস খুলেছে। আজকে আমাদের কর্মকর্তাকর্মচারীরা সবাই উপস্থিত ছিলেন। পুরো অফিস টাইম আমরা অফিস করেছি। তবে সেবাপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। যারা সেবার জন্য আর্জি জানিয়েছেন, তারা সেবা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশের টিয়ারশেল
পরবর্তী নিবন্ধফয়’স লেকে হোটেলে দম্পতির লাশ