আজ থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধে সাজেক সড়ক

রাঙামাটি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন আজ বৃহস্পতিবার থেকে আবারও সাজেকে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য’দের সরিয়ে নেয়াসহ সাজেকবাসীর ৩ দফা দাবি পূরণে ‘প্রশাসন ব্যর্থ হওয়া’ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে গতকাল বুধবার দুপুরে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা গণমাধ্যমে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবরোধের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাজেকের মাচালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে আমরা গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। ওই দিন প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়াসহ আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। যার কারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু গতকাল ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। গতকাল (মঙ্গলবার) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাচালং এর চিল্লাতুলি গ্রামে মিয়্যো চাকমা নামে এক সাধারণ গ্রামবাসীর ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে দুই সংগঠনের নেতারা বলেন, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা মাচালং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্লাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে, জনগণকে হুমকি, ভয়–ভীতি দেখাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক দেখানো অভিযান চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের উৎপাত বন্ধ করার জন্য তাদেরকে উক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে আবারো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ঔষধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, গত ১১ তারিখ প্রশাসন আমাদের থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল এবং আমাদের তিনটি দাবি পূরণে আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু গতকাল সেই ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই আমাদের দাবিগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অবরোধ চলবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ–তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জেএসএস জুম্ম জনগণসহ এই অঞ্চলের সকল জনগণের স্বার্থে সংগ্রাম করা পরীক্ষিত একটি দল। আমরা জানতে পেরেছি, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরাই উক্ত দুই সংগঠন দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, যে দুইটি সংগঠনের কথা বলা হচ্ছে সে দুটি সংগঠনের সাথে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত ১১ তারিখ অবরোধকারীদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের কোনো ঘর বাড়ি ও তল্লাশি করা হয়নি। তাদের নিরাপত্তায় বিঘ্নিত হয় এরকমও কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া সাজেক এলাকা থেকে সশস্ত্র গ্রুপকে বিতাড়িত করার জন্য সেনাবাহিনী চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান চলমান রয়েছে। এখানে যে সকল সশস্ত্র গ্রুপ ইউপিডিএফ ও জেএসএস রয়েছে সে দুইটি সশস্ত্র গ্রুপকে ধরার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে আর অবরোধকারীদের কথা একটাই শুধু জেএসএসকে ছড়াতে। যারা অবরোধ কর্মসূচি দিচ্ছে গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নামে হলেও তারা ইউপিডিএফ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে ৯ নভেম্বর
পরবর্তী নিবন্ধইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও ভবন মালিককে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা