সম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক হলেই শিক্ষক সন্তুষ্ট

মিতা পোদ্দার | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে।শিক্ষা শুধু একটি সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম নয়,বরং একটি সুন্দর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদা দান একটি উন্নত ও নৈতিক সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। শিক্ষক কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দান করেন না, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিদের চরিত্র গঠন এবং মেধার বিকাশ ঘটান। সমাজে শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল যা অচিরেই ধামাচাপা পরে যাচ্ছে। একজন শিক্ষক যেমনিভাবে একটি জাতিকে উন্নত করতে পারেন ঠিক তেমনিভাবে জাতিকে ধ্বংসও করতে পারেন। আজ আমরা শিক্ষক সমাজ আমাদের প্রাপ্ত সম্মানটুকু ধরে রাখতে পারছি না। যেখানে বলা হয়েছিল শিশুর প্রারম্ভিক ধাপ শুরু হয় প্রাথমিকের হাত ধরে। আমরা বাঙালিরা দুধের মাছি। সময় সুযোগ বুঝে ঠিকই কেটে পড়ি। সত্য ও সুন্দরের পথ হচ্ছে একজন আদর্শ শিক্ষকের সাধন–দর্শন। সেই পথ থেকে তাদের এক শ্রেণির কিছু মানুষ চিরকাল নীচু করে রাখার পরিকল্পনায় ব্যতিব্যস্ত। মানব সভ্যতা বিকাশের পশ্চাতে রয়েছে শিক্ষক সমাজ। শিক্ষাকে সব উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে ধরলে শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিকল্প নেই। অথচ সেই শিক্ষকদের মর্যাদা আজও তৃতীয় শ্রেণির কাঠগড়ায় আবদ্ধ হয়ে আছে। অর্থ নয়, আমরা চাই আমাদের ন্যায্য মর্যাদা। মানবসন্তানকে মানুষে পরিণত করার ঐকান্তিক তপস্যা হচ্ছে শিক্ষকতা। তাই পৃথিবীর সব দেশেই শিক্ষকের প্রকৃত মর্যাদা তুলনামূলক সর্বাধিক। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ এখনও সেই মান্দাতার আমলেই পড়ে আছে। শিক্ষকতা মূলত একটি ব্রত। যেখানে একজন শিক্ষক নিবেদিত প্রাণ বিনে কিছুই নয়। যে সমাজের শিক্ষক যত বেশি উৎকৃষ্ট, সে সমাজের মানুষ তত বেশি উৎকৃষ্ট। বর্তমান বাস্তবতায় উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল। যে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী বেশি, সে দেশে উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। যে দেশে উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা বেশি, সে দেশে উৎকৃষ্ট নাগরিকের সংখ্যাও বেশি। উৎকৃষ্ট নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক নির্ধারণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকের সার্বিক মর্যাদা তথা সম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক হলেই সর্বাধিক যোগ্য লোক শিক্ষক হন। এটিই বর্তমান বাস্তবতায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সম্মানিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় আপনার প্রতি সদয় দৃষ্টি রেখে বলতে চাই, আপনি শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন এই প্রত্যাশা রইলো আমাদের। সাড়ে তিন লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাণের দাবী আদায়ে আপনার সর্বাত্বক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএই দিনে