কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে হাঁটলেন ৬ কিলোমিটার

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:১২ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। গতকাল শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এরপর সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে তিনি প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটেন।

তিনি বলেন, একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন। খবর বাসসের।

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন? এ সময় নেতাকর্মী–সমর্থকরা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান। বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতাকর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী–সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র–জনতা শুধু স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, আবার তারা আমি–ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি–জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার গণ অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা–কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে হাঁটলেন ৬ কিমি : সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকেও প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার বলয় ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতাকে সাথে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি মিশে গেলেন জনতার কাতারে। গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকাল সাড়ে ৩টায় র‌্যালির সূচনা করে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। পথের পাশের উঁচু ভবনগুলোর জানালা ও ছাদ থেকেও নারী–পুরুষ ও শিশুদের হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক সন্তানকে দাফন করে এসে আরেকজনকে বাঁচানোর লড়াই