সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আরো ছয়জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে মধ্যে একই পরিবারের চারজন এবং অপর একটি পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের পাঠানো এক প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, দুর্ঘটনায় তিনটি পরিবারের মোট ১৩ জন বাংলাদেশি হতাহত হন। হতাহতদের সবার গ্রামের বাড়ি কঙবাজার জেলায়।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি একজন পাকিস্তানি নাগরিক চালাচ্ছিলেন। খোলাইস ট্রাফিক অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে জানা গেছে। তবে গাড়িচালকের দাবি, টায়ার ফেটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে আল–আবির কোম্পানিতে কর্মরত চার বাংলাদেশি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, তার তিন সন্তান বুশরা, ইয়াসির ও ইয়াযান, আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া এবং ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি।
আহত ছয়জন হলেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা, আলম শাহ ও তার ছেলে ফায়সাল, ইলিয়াস ও গফুর আলম। আহতদের মধ্যে শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে, ইউসরা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে, ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে এবং গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আলম শাহ ও ইলিয়াস প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পর হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
নিহতদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ও তার তিন সন্তানের মরদেহ আল–হিমনা জেনারেল হাসপাতালে এবং সানজিদা ও আফসানা বিবির মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। ফারিয়ারের মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। অপরদিকে নিহতদের বাড়ি চকরিয়া উপজেলায় বলা হলেও গতকাল সন্ধ্যা ৬টা তাদের গ্রামের বাড়ি নিশ্চিত হতে পারেনি চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশ।
এদিকে চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে নিহতদের বাড়ি চকরিয়া উপজেলায় বলা হলেও সঠিক কোন ইউনিয়ন বা গ্রামে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই বিষয়ে নিহতদের কোনো স্বজন যোগাযোগও করেনি। তবে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।












