নগরীর নিউ মার্কেট মোড় থেকে ২০ মিনিটে কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেওয়া চট্টগ্রামের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড আগামী মাসে চালু হচ্ছে। বিস্তৃত এলাকার জীবনমান এবং আবাসনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি শহররক্ষা বাঁধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে গ্রহণ করা প্রকল্পটিতে পর্যটন এবং নগরবাসীর প্রাত্যহিক বিনোদনের জন্যও ব্যাপক আয়োজন রাখা হয়েছে। সাত কিলোমিটারের ওয়াকওয়েসহ নদীর পাড়ে পর্যটনবান্ধব আবহ তৈরি করা হচ্ছে। কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির মাত্র ২শ মিটার রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। আগামী মাসে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সূত্রে জানা যায়, নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু (চাক্তাই খালের মুখ) থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ–কাম আউটার রিং রোডের নির্মাণকাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী সেতু প্রান্তের বাকলিয়া কলেজ এলাকায় কিছু এবং কালুরঘাট অংশে কিছু মিলিয়ে মোট ২০০ মিটারের মতো সড়ক ও বাঁধের কাজ বাকি রয়েছে। কলেজ এলাকায় একটি পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। অপরদিকে কালুরঘাট এলাকায় কয়েকটি বাড়িঘর উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শ্রীঘ্রই এসব কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। ওই ২০০ মিটারের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটি সিডিএর বিশেষ মেগা প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়। নগরীর যান চলাচলে গতি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটিতে সড়কের পাশাপাশি রেগুলেটরসহ ১২টি স্ল্যুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্ল্যুইচগেটও রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে মাঝপথে প্রায় দুই বছর প্রকল্পের কাজ অনেকটা থেমে থাকে। পরে সরকারি অর্থছাড়ে বিলম্বের কারণেও প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। গত জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নানা সীমাবদ্ধতায় প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় দফায় ৬ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আগামী মাসে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই রাস্তাটি চালু হলে নগরীর যান চলাচলে অনেক বেশি গতি তৈরি হবে। মাত্র ২০ মিনিটে নিউ মার্কেট থেকে কালুরঘাট যাওয়া যাবে। এখন যেটা যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন রাস্তায় শহরের বেশ কিছু গাড়ি চলে গেলে বহদ্দারহাট–কালুরঘাট সড়কে যান চলাচলে গতি আসবে। নগরীর বিস্তৃত এলাকার যান চলাচলে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে বোটপাসসহ ১২টি স্ল্যুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্ল্যুইচগেটে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা গেট স্থাপন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে পাম্প। বৃষ্টির সময় পাম্পের মাধ্যমে পানি নদীতে ফেলা হয়। স্লুইচগেটের সুফল গত বর্ষায় নগরবাসী পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। তারা বলেন, নগরীর অনেক এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার পেয়েছে। বৃষ্টির সময় জোয়ারে গেটগুলো বন্ধ করে পাম্প করে পানি নদীতে ফেলা হয়। ভাটার সময় গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে পানি সহজে নদীতে গিয়ে পড়ে। আগে বৃষ্টির সময় জোয়ার হলে যেভাবে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ করতো উপরোক্ত স্ল্যুইচগেটগুলো চালু হওয়ায় তা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে।
পতেঙ্গা থেকে ফৌজদার পর্যন্ত প্রথম আউটার রিং রোড ফৌজদারহাট–বায়েজিদ লিংক রোড হয়ে অনন্য আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে যাওয়া সড়ক ধরে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং সেখান থেকে কালুরঘাট হয়ে শাহ আমানত সেতু পার হয়ে চাক্তাই খালের মুখ পর্যন্ত বিস্তৃত এই আউটার রিং রোড। দ্বিতীয় পর্যায়ের রিং রোডেও পতেঙ্গার আদলে প্রায় ৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়েসহ মানুষের অবসর সময় কাটানোর নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব দাশ আজাদীকে বলেন, ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রাস্তার প্রায় পুরো কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কিছু কাজ বাকি। অচিরেই আমরা বাকি কাজ সম্পন্ন করব। শহরের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড হিসেবে এই সড়কে আগামী মাসে পুরোদমে যান চলাচল করবে। রাস্তা, বাঁধ এবং ওয়াকওয়েসহ পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ওখানে বেড়াতে গিয়ে অবসর কাটান। রাস্তাটি নগরীর পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।











