নগরীতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শপিং ব্যাগ সুপারশপসহ ৩ খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দণ্ডিত অপর দুই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কাহওয়া ক্যাফে ও ফুলকলি ব্রেড এন্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি সূত্র জানায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, রান্নায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, আমদানিকৃত খাদ্যে যথাযথ লেভেলিং না থাকা, বাচ্চাদের খেলনা বিক্রয়স্থলের পাশে মেজবানি মাংসের গরম পাতিল সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্যের সাথে ইঁদুর মারার ঔষধ ছিটিয়ে রাখা, পচা মরিচ সংরক্ষণ ও খোসপাঁচড়া রোগে আক্রান্ত কর্মী দিয়ে মশলা প্রস্তুত করছিল শপিং ব্যাগ সুপারশপ। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৫৮ ধারায় (দণ্ড তফসিল) বর্ণিত ৩৩ ধারায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ নভেম্বর আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বাচ্চাদের খেলনা বিক্রয়ের স্থল এবং মেজবানি মাংসের পাতিল আলাদা স্থানে রেখে বিক্রয় করার প্রমাণাদি দাখিল করতে হবে বলা হয়।
কাহওয়া ক্যাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে কেকের উপর মুরগির নখ পড়ে থাকা, ময়লাযুক্ত মেয়াদহীন খামি সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় ময়লা ডাস্টবিন, পচা বিটরুট সংরক্ষণ ও কারচুপির মাধ্যমে ম্যাঙ্গো ফ্লেভার ড্রিংকসকে ম্যাঙ্গো ড্রিংকস বলে বিক্রয় হচ্ছিল। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪–এর ১৯ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্য উৎপাদনে লেভেল ও মেয়াদহীন বাটারের ব্যবহার, খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাখা ডালডার ভিতরে পলিথিন ও ময়লা, ভাঙা, অপরিষ্কার–অপরিচ্ছন্ন ও পিচ্ছিল ফ্লোর, টোস্ট পাউডারে মাছি বসে থাকা, খামিতে মাছি ভনভন করা, মার্জারিন স্টোরেজ করা ফ্রিজের তলায় পানি জমে থাকা, চানাচুর, মটর ভাজা উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার, কেক–রুটি তৈরির ডাইস ও খামিতে ময়লা, টোস্ট সংরক্ষণ স্থলে তেলাপোকার বিচরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণ করছিল ফুলকলি ব্রেড এন্ড বিস্কুট ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩–এর ৫৮ ধারায় (দণ্ড তফসিল) বর্ণিত ২৬ ও ৩৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি জানায়, বিচারিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা–কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং এসআরবি–৭, সিএমপি ও আনসার ব্যাটালিয়ন টিম সমন্বয় করে।












