নিকডু ও চট্টগ্রাম মেডিকেলে পিপিপির ডায়ালাইসিস সেবা সচল রাখার দাবি

ঢাকায় ডায়ালাইসিস সেন্টার রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটির সংবাদ সম্মেলন

| রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব–পিপিপির আওতায় জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট–নিকডু এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হওয়া ডায়ালাইসিস সেন্টারটি সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন সেখানকার ডায়ালাইসিসের রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর চেয়ে সেখানে নিরাপদে ও খুব কম খরচে ডায়ালাইসিস করা যায়, যা গরিব রোগীদের জন্য দরকারি। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকায় ১৩০ জন এবং চট্টগ্রামে ২৭০ জন কিডনি রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন। ‘ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটি’ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমিটির সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, ক্রমবর্ধমান কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবার কথা বিবেচনা করে ২০১৭ সালে পিপিপির অধীনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করে। এর আওতায় নিকডুতে ৫৯টি মেশিন নিয়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করা হয়, যা মূল চুক্তি অনুযায়ী আরও ১০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নিকডুর পরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে রোগীরা জানতে পেরেছেন যে নতুন যন্ত্র কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং স্যান্ডরের জায়গাতেই নতুন যন্ত্র বসানো হবে, এতে ছয় মাস সময় লাগবে। এ সময়ে রোগীদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস করতে বলা হয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পিপিপি চুক্তির আওতায় স্যান্ডরে সরকারি ভর্তুকিসহ ৬২১ টাকায় ডায়ালাইসিস এবং আনুষঙ্গিক সব উপকরণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া ১৮ জন রোগী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন এবং অটোমেটেড মেশিনে কেমিক্যাল ও ওষুধ দিয়ে ডায়ালাইজার জীবাণুমুক্ত করা হয়। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিয়ে ছয় মাস ডায়ালাইসিস করতে হয় এবং কোনো রোগী দু–তিনটি সেশন বা এক মাস পর মারা গেলেও বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যায় না বলে দাবি করেন তিনি।

রিপনের দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সপ্তাহে দুইটির বেশি ডায়ালাইসিস করার সুযোগ নেই এবং মাসে মাত্র দুইটি ডায়ালাইজার বরাদ্দ থাকে। এছাড়া হাতে ডায়ালাইজার ধোয়ার কারণে জীবাণু সংক্রমণে রোগীদের কাঁপুনি হয় এবং যন্ত্র নষ্ট থাকায় চার ঘণ্টার বদলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ডায়ালাইসিস দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাইরে থেকে স্যালাইন, গ্লাভস, ওষুধের দ্রবণ ও অতিরিক্ত ডায়ালাইজার কিনতে হওয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতি ডায়ালাইসিসে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা খরচ হয় বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টিকে কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিতে না দেখে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সরকার স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করতে চাইলে তাদের বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল অধিগ্রহণ করে দেশীয় কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিপিপির অধীনে এটি চালু রাখতে পারে। কোম্পানি যেটিই হোক না কেন আমাদের আপত্তি নেই, আমরা শুধু আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য পূর্বের নিয়মতান্ত্রিক বিষয়টি সচল দেখতে চাই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও রোগীর স্বজন মো. মনিরুজ্জামান, আট বছর ধরে ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়া রোগী শামীমা মির্জা (শারমিন মির্জা)।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিউ মার্কেট থেকে ২০ মিনিটে কালুরঘাট, অপেক্ষা ফুরাচ্ছে
পরবর্তী নিবন্ধপ্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক