কাগজের জাহাজে সম্প্রীতির বার্তা

বাঁকখালীতে জাহাজ ভাসা উৎসব

| বুধবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ

কাগজে গড়া কল্পিত জাহাজ, নদীর দুই তীরে হাজারো দর্শনার্থী আর নানা ধর্ম–বর্ণের মানুষের মিলন মেলা। কঙবাজারের রামুতে বাঁকখালী নদীর তীরে জাহাজ ভাসা উৎসব যেন ঐতিহ্যের পাশাপাশি সমপ্রীতিরও এক বর্ণিল আয়োজন। বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাসের স্মৃতি ধারণ করে চলে আসা এই উৎসব এখন আর কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; নদীর দুই তীরে একত্র হওয়া মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের প্রতীক। খবর বিডিনিউজের।

গত সোমবার দুপুরের পর থেকেই বাঁকখালী নদীর দুই তীরে আসতে শুরু করেন মানুষ। নৌকার ওপর সাজানো হয় কাগজ দিয়ে তৈরি নানা আকৃতির কল্প জাহাজ। বর্ণিল এসব নৌকা দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি জাহাজ ভাসা উৎসবকে জাতীয় উৎসবের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে কথা বলেছেন, এই কর্মসূচিটাকে জাতীয় উৎসব হিসেবে আমরা গ্রহণ করতে পারি কি–না, আমরা নিশ্চয়ই এরকম উৎসবকে আমাদের জাতীয় উৎসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেব। প্রধানমন্ত্রীকে আপনাদের এখান থেকে ফিরে গিয়ে আপনাদের এই বর্ণাঢ্য, বর্ণিল ও আনন্দময় উৎসবের সবকিছু সম্পর্কে জানাব।

রামু সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর ভাষ্য অনুযায়ী, কল্প জাহাজ উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গৌতম বুদ্ধের নদীপথে যাত্রার স্মৃতি। তিনি বলেন, আড়াই হাজার বছর আগে মগধ থেকে বৈশালী যাওয়ার সময় গৌতম বুদ্ধ গঙ্গা নদীপথে জাহাজে করে যাত্রা করেছিলেন। সে সময় বৈশালীতে দুর্ভিক্ষ ও নানা উপদ্রব দেখা দিলে সেখানকার রাজার আমন্ত্রণে বুদ্ধ সেখানে যান। তার সেই যাত্রার স্মৃতি উদযাপনের ধারার সঙ্গে কল্পজাহাজ উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্যযুক্ত।

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, তার জানা মতে, অন্তত ৩০০ বছর আগে মিয়ানমারে এ উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। পরে প্রায় এক শতাব্দী আগে রামুতেও এর আয়োজন শুরু হয়। প্রথম দিকে স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবটি উদযাপন করতেন। পরে বড়ুয়া ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে তা আরও বিস্তৃত হয়। সময়ের সঙ্গে উৎসবের পরিসর বেড়েছে। এখন ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এটি স্থানীয় মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, এখানে নির্দিষ্ট কোনো জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ শুধু অংশগ্রহণ করেন বা উপভোগ করেন, তা নয়। এখানে সকল ধর্ম–বর্ণের মানুষ উপস্থিত হন। এটি একটা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এমন আয়োজন প্রতিবেশীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। ভবিষ্যতেও সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা তার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকার ক্রসফায়ার চায় না, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধবয়স ৩৫ পেরিয়ে গেলে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে