ফুটপাতে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন রঙের ও স্বাদের শরবত তৈরি ও বিক্রির প্রক্রিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অনেক ব্যবসায়ী শরবতকে আকর্ষণীয় করতে অননুমোদিত শিল্প–কারখানায় ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ, কেমিক্যাল ও কাপড়ের রঙ ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া তৃষ্ণা মেটানোর এই শরবতে অনেক সময় ব্যবহৃত হয় অনিরাপদ বরফ, বাসি বা পচা ফল, এবং অপরিচ্ছন্ন ড্রেন বা ট্যাপের পানি। এই বরফ বা পানি সাধারণত বিভিন্ন রোগজীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ায় পূর্ণ থাকে, যা মানুষের খালি চোখে ধরা পড়ে না। বাসি ও রাসায়নিকযুক্ত ফুটপাতের শরবত খাওয়ার মাশুল আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য দিয়ে দিতে হয়। এ ধরনের পানীয় পান করার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, ফুড পয়েজনিং ও আমাশয়ের মতো জটিল রোগ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিত রঙ ও কেমিক্যালযুক্ত পানীয় পান করার ফলে মানবদেহের লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বাড়িতেই লেবু, ডাবের পানি, বেলের শরবত বা মৌসুমী ফলের তাজা রস প্রস্তুত করে পান করা অনেক বেশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর। তাই সাময়িক তৃপ্তি বা আকর্ষণের ফাঁদে পড়ে নিজেদের অমূল্য স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে না ফেলি। স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সচেতন জীবনযাপনই পারে আমাদের এবং পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।
তারেক আল মুনতাছির
শিক্ষার্থী,
বাংলা বিভাগ
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।










