ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও ভবন মালিককে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

যানজট নিরসন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিডিএর পদক্ষেপ বারবার সতর্ক করার পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এই জরিমানা সংলগ্ন পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে হাসপাতাল কেন্দ্রিক যানজট নিরসন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বারবার সতর্ক করা, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সরেজমিনে পরিদর্শনের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যানজটমুক্ত, পরিকল্পিত ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে মেহেদিবাগ থেকে প্রবর্তক হয়ে মির্জাপোল পর্যন্ত হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংশোধনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শুধু নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি চউক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যানজট নিরসন ও পার্কিং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গত ৬ আগস্ট ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গত ১৩ অক্টোবর পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

চউক চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন হাসপাতালের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা অনুসরণ করে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাদের প্রকাশ্যে প্রশংসাও করেছেন। তবে বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যারা প্রয়োজনীয় সংশোধন করছে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল চউকের অথরাইজড অফিসার–১ এবং স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইবনে সিনাকে ২০ লাখ টাকা এবং ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি পিছু হটার লোক নই। আইন সবাইকে মানতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার দায়িত্ব দিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের সেবা নিতে এসে যেন সাধারণ মানুষ যানজটের দুর্ভোগে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বারবার সতর্ক করার পরও যারা সংশোধন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় চউকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজ থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধে সাজেক সড়ক
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরো দুইজনের মৃত্যু নতুন শনাক্ত ৯৮