বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকদের তালিকায় এবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছয়জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ারের বিশ্বব্যাপী র্যাংকিংয়ে তাঁদের নাম উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
চুয়েটের জন্য এবারের তালিকায় বিশেষ অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির চারজন শিক্ষক এই তালিকায় ছিলেন। এবার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, রসায়ন বিভাগের একজন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজনসহ মোট ছয়জন শিক্ষক জায়গা করে নিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক মো. আশরাফ আলী সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১ হাজার ৪১৮তম। তাঁর মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৮৮টি।
একই বিভাগের অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের গবেষণাপত্র রয়েছে ৮৭টি। ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী তাঁর অবস্থান ৪ হাজার ৫৪১তম। এ বিভাগের অধ্যাপক মো. মুক্তার হোসাইনের ৮১টি গবেষণাপত্র রয়েছে এবং একই উপক্ষেত্রে তাঁর বৈশ্বিক অবস্থান ৫ হাজার ১১৯তম।
চুয়েটের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অবস্থান দেখা গেছে। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইউনুস আহমেদের ৩৪টি গবেষণাপত্র রয়েছে। সাধারণ রসায়ন উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে তিনি ৪২৬তম অবস্থানে রয়েছেন।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সামিত মজুমদার বিশ্লেষণাত্মক রসায়ন উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ৯৪১তম অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২০টি।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল ভূঁইয়ার ৪৪টি গবেষণাপত্র রয়েছে। নির্ভরযোগ্য শক্তিবিষয়ক উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৭ হাজার ৩৫০তম।
তালিকায় গবেষকদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বিবেচনা করা হয় না। গবেষণার প্রভাব ও সাইটেশনও এতে গুরুত্বপূর্ণ। মোট সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, সহলেখকের সংখ্যা বিবেচনায় সমন্বিত এইচএম-ইনডেক্স, একক লেখক হিসেবে প্রকাশিত গবেষণার সাইটেশন এবং প্রথম ও শেষ লেখক হিসেবে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সাইটেশন—এই ছয়টি সূচকের ভিত্তিতে সি-স্কোর নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্বের কোটি কোটি গবেষকের তথ্য নিয়ে তৈরি স্কোপাস ডেটাবেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। কোনো গবেষক দুটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করলে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেতে পারেন। এর একটি হলো সি-স্কোরের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ এক লাখ বিজ্ঞানীর মধ্যে থাকা। অন্যটি হলো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপক্ষেত্রের গবেষকদের মধ্যে শীর্ষ ২ শতাংশে অবস্থান করা।
গবেষকদের মূল্যায়নের জন্য বিজ্ঞানজগতকে ২২টি প্রধান ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্র ও উপক্ষেত্রের ভিত্তিতেই গবেষকদের বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
এবারের তালিকায় শুধু চুয়েট নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরাও স্থান পেয়েছেন। ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৮৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।












