কর্ণফুলীতে কবিরাজের পরামর্শে হাত–পা বেঁধে লাঠিপেটা করতে গিয়ে এক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৮) ওই এলাকার নুর মোহাম্মদ চৌকিদারের ছেলে। এ ঘটনায় বাবা নুর মোহাম্মদ ও মা জাহেদা বেগমকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গারচর এবাদুল্লাহর বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ওসি নূর আহমদ বলেন, কবিরাজের পরামর্শে লাঠির আঘাত করে ঝাড়ফুঁক করার সময় ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও মা আটক রয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ প্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে সুস্থ করতে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে এক কবিরাজের পরামর্শে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতর হাত–পা বেঁধে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ঝাড়ফুঁক করছিলেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
যে কবিরাজের পরামর্শে এভাবে ঝাড়ফুঁক করা হচ্ছিল, তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই কবিরাজ কর্ণফুলীর বড়উঠান–শাহমীরপুরের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। নিহতের প্রতিবেশী মো. সাকিব বলেন, সকালের দিকে আব্দুল্লাহকে ঘরের মধ্যে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখে আমরা প্রতিবেশীরা তাদের নিষেধ করি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আমাদের কথা শোনেনি, উল্টো ধমক দেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।











