অনুমতি ছাড়া বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি-ভিডিও ধারণ ও প্রচার না করার নির্দেশনা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অননুমোদিত ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তা প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অপারেশনাল তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ ও প্রচার থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি–রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর স্থাপনা নিরাপত্তা বিধিমালা বা আইএসপিএস অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাসমূহের সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২–এর ১২ ধারার উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩–এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ বা প্রচার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি বা ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন কিংবা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে কেপিআই, সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

এতে বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধডেঙ্গুতে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৯৬