চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ব্যাংকে একটি মেইল পাঠিয়েছেন নতুন উপাচার্য। জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে এই মেইল পাঠিয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। চুয়েট আইন ২০০৩–এর ধারা ১৩ (৭)-এর কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ এবং ব্যাংক টাকা ছাড় করলে তাদেরও দায় নিতে হবে। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক গণমাধ্যমকে জানান, নতুন ভিসির পক্ষ থেকে তাদের একটি মেইল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে বেতন বন্ধের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নতুন উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেতন–বোনাস প্রদানে ভিসির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না, হিসাব নিয়ন্ত্রকদের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে টাকা ছাড় হয়। মূলত শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বশে আনতে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।
চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিম্ন স্কেলের কর্মচারীদের সামান্য বেতনের ওপরই সংসার চলে। বেতন না পাওয়ায় এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের পূজা বোনাস আটকে থাকায় অনেকেই ধার দেনা শুরু করেছেন। আমরা দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, ডেপুটি কম্পট্রোলার মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখা এবং কর্মবিরতির কারণে বেতন ইনপুট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শাটডাউনের ফলে অফিসে প্রবেশ করতে না পারায় পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।










