জাতীয় সংকটকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে হবে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।
রাশেদ খাঁন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও জনকল্যাণে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। জনগণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন দেখতে চায়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পরস্পরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জায়গায় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সবাই এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জাতি, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উপর পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি আমদানি–নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি পানি, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প উৎসের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জ্বালানি সংকট নিয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই জাতীয় সংকটে জনগণ যাতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পায়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাশেদ খাঁন বলেন, গণতন্ত্রের কঠিন সময়ে আপনারা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা দেশের মানুষ দেখেছে। ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এবং গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটির এখন আরও সময় নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করা উচিত। জনগণ এই মুহূর্তে সরকারবিরোধী আন্দোলন দেখতে চায় না। ইসলামের নামে মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট দেওয়ার দাবি কেউ করতে পারে না। জামায়াত কখনো শরিয়াহ আইন, আবার কখনো কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।












